যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ অল্প ভোটের ব্যবধানে নতুন প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল অনুমোদন করেছে। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বিলে সামরিক খাতে নজিরবিহীন ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিলটি ঘিরে কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
অল্প ব্যবধানে পাস হলো বিল
ভোটাভুটিতে বিলটি ২১৬ ভোটে পাস হয়, বিপক্ষে পড়ে ২১২ ভোট। অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দিলেও প্রায় সব ডেমোক্র্যাট এর বিরোধিতা করেন। ফলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিরক্ষা বিলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
কেন আপত্তি ডেমোক্র্যাটদের

বিরোধীদের দাবি, সামাজিক খাতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সামরিক খাতে এত বড় বরাদ্দ দেওয়া যৌক্তিক নয়। তাদের মতে, চলমান ইরান সংঘাত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আরও বড় প্রতিরক্ষা বাজেট দেশের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এছাড়া বিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও রয়েছে। এই বিষয়টিও বিতর্ক বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে এমন উদ্যোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
রিপাবলিকানদের যুক্তি
রিপাবলিকান সদস্যদের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, এই অর্থ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি এবং আবাসন সুবিধা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তারা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিনিয়োগ অপরিহার্য।

সামনে আরও কঠিন পথ
যদিও প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়েছে, তবুও এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সিনেটে পৃথক সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হবে এবং পরে উভয় কক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে একটি অভিন্ন বিল তৈরি করতে হবে। এরপর সেটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
তবে এবার পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় বেশি জটিল। প্রতিরক্ষা বাজেটের আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন হওয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ সহজ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা অনুমোদন বিল নিয়মিতভাবে আইনে পরিণত হলেও এবার রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















