দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন ভণ্ডুল করতে বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
অভিজিৎ দিপকের দাবি, আন্দোলন দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের পরিধি বাড়তে শুরু করার পরই কিছু বহিরাগতকে এনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্দোলনের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনের মূল দাবিগুলো থেকে তারা সরে আসবেন না বলেও জানান।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দিপকের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ছিল অত্যন্ত কঠোর। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক কর্মী আন্দোলনস্থলে পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পাথরবাহী ট্রাক নিয়ে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান
আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র জানান, আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তাদের একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি আন্দোলনে ঢুকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে যন্তর-মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে দিল্লির একটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, তারা হাসপাতালে ভর্তি সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।
আন্দোলনের মূল দাবি
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েও দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানেই রয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















