ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে অন্তত তিনজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন দেশেই বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ও দমকল বাহিনী কাজ করছে।
তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে বিপদ
দক্ষিণ ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘদিনের বৃষ্টিহীন আবহাওয়া এবং শুকনো বনাঞ্চল দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এর তীব্রতাও বাড়ছে।
সিসিলিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা
ইতালির সিসিলি দ্বীপে কয়েক দিন ধরে চলা দাবানল নেভাতে প্রায় ছয় হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী কাজ করছেন। বহু এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথ থেকেও পানি ছিটানো হচ্ছে। আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম ও শুকনো মাটির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রতিবেশী কালাব্রিয়া অঞ্চলেও শতাধিক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, এর অনেকগুলোই ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে।
ফ্রান্সে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে। বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে এবং বহু ক্যাম্পিং এলাকাও খালি করে দেওয়া হয়েছে।
দমকল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘন পাইনবন, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাস আগুনকে অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্পেনেও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে দাবানল দেখা দেওয়ায় কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরের বড় একটি দাবানল নেভাতে শত শত দমকলকর্মী এখনো কাজ করছেন।
জলবায়ু সংকটের নতুন সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা প্রভাবের স্পষ্ট উদাহরণ। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, শুষ্ক বনাঞ্চল এবং অনুকূল আবহাওয়া একসঙ্গে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এখন শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায়ও নতুন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















