ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কথিত নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর করা হয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনের বাইরে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট সেবা মধ্যরাত পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এদিকে যন্তর-মন্তরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা
দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবারও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার যদি এই দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে আন্দোলন আর শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক দাবি জোরালো হবে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কোনো আপস হবে না এবং আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই চলবে।
কড়া নিরাপত্তা, ইন্টারনেট বন্ধ
যন্তর-মন্তর ও সংসদ মার্গ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সরকার আলোচনায় প্রস্তুত
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সিজেপি জানিয়েছে, আলোচনা হলে তা যন্তর-মন্তরে অথবা উভয় পক্ষের সম্মত কোনো নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে। নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকের সরকারি প্রস্তাব আন্দোলনকারীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংঘর্ষের তদন্ত
যন্তর-মন্তরের আশপাশে সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ এবং পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্তভার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।
বিরোধীদের চাপ অব্যাহত
সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দাবি করেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধের বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপ মূল সমস্যার সমাধান নয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সমাজকর্মী আন্না হাজারেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
#রাহুলগান্ধী #দিল্লি #যন্তরমন্তর #র্যাফ #ইন্টারনেটবন্ধ #NEET #ধর্মেন্দ্রপ্রধান #ভারত
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















