১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ? হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ বড় পতনে, ডিএসইএক্স কমল ৬৬ পয়েন্ট রাহুল গান্ধীর বাড়ির বাইরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন, দিল্লিতে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করার ঝুঁকি: বৈধতার সংকটে রাষ্ট্রের কঠিন পরীক্ষা মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে জেলে যেতে হতো তাকেই- মার্ক থিসেন তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি

হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • 3

মানুষের হৃদস্পন্দনকে আমরা সাধারণত মস্তিষ্কের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া হিসেবে কল্পনা করি। বহু দশক ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানও এই ধারণার ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই চিত্রটি অসম্পূর্ণ। হৃদয়ের ভেতরেই এমন একটি স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা শুধু মস্তিষ্কের নির্দেশ পালন করে না; বরং নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে হৃদস্পন্দনকে স্থিতিশীল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তীব্র মানসিক বা শারীরিক চাপের সময় এই অভ্যন্তরীণ স্নায়বিক নেটওয়ার্কই জীবন রক্ষার শেষ প্রতিরক্ষা হতে পারে।

এই আবিষ্কার হৃদয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। হৃদয়কে শুধু একটি পাম্প হিসেবে নয়, বরং সীমিত হলেও নিজস্ব স্নায়বিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি অঙ্গ হিসেবেও দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হৃদয়ের ভেতরের স্নায়বিক জগৎ

মানবদেহে অন্ত্রের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এখন বিজ্ঞানীরা একই ধরনের একটি জটিল স্নায়বিক ব্যবস্থা হৃদয়ের মধ্যেও চিহ্নিত করছেন, যাকে বলা হয় ইনট্রিনসিক কার্ডিয়াক নার্ভাস সিস্টেম। হৃদয়ের চারপাশের চর্বিযুক্ত অংশে অবস্থিত এই স্নায়ুকোষগুলো মস্তিষ্কের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে, আবার নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখে।

এতদিন এই স্নায়ুতন্ত্রের প্রকৃত ভূমিকা স্পষ্ট ছিল না। কারণ হৃদয়ের মোট কোষের তুলনায় এসব নিউরনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে তাদের শনাক্ত করা এবং কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকেরা এখন এই ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক নেটওয়ার্ককে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

সব নিউরনের কাজ এক নয়

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—হৃদয়ের সব স্নায়ুকোষ একই ধরনের কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা অন্তত দুটি আলাদা নিউরন গোষ্ঠী শনাক্ত করেছেন, যাদের দায়িত্বও ভিন্ন।

একটি গোষ্ঠী হৃদস্পন্দনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিউরনগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় অতিরিক্ত দ্রুত হৃদস্পন্দন কমিয়ে আনে এবং হৃদয়ের ছন্দ বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে দিলে হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অন্যদিকে দ্বিতীয় গোষ্ঠীর ভূমিকা প্রথমে রহস্যময় মনে হয়েছিল। এগুলোকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার পরও পরীক্ষাধীন প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল না। ফলে ধারণা হয়েছিল, হয়তো এদের গুরুত্ব সীমিত।

কিন্তু সেই ধারণা বদলে যায় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে।

চাপের মুহূর্তেই প্রকাশ পেল আসল ভূমিকা

রক্তচাপ পরিমাপের মতো সাধারণ পরীক্ষার সময় কয়েকটি পরীক্ষাধীন প্রাণী হঠাৎ মারা যায়। পরে বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব প্রাণীর নির্দিষ্ট ধরনের নিউরন কার্যকর ছিল না, তাদের বড় একটি অংশ সামান্য চাপের মধ্যেই হৃদস্পন্দনের আকস্মিক পতনের শিকার হয় এবং আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না।

এরপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে একই পরীক্ষা চালানো হলে একই ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ এই নিউরনগুলো স্বাভাবিক সময়ে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও সংকটের মুহূর্তে হৃদয়ের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বিপরীতে, এই স্নায়ুকোষগুলোকে সক্রিয় করা হলে চাপের মধ্যে প্রাণীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

এই পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দেয় যে হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতন্ত্র শুধু দৈনন্দিন ছন্দ বজায় রাখে না; বরং বিপদের মুহূর্তে হৃদয়কে ধসে পড়া থেকে রক্ষাও করে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

এই গবেষণা এখনো প্রাণীভিত্তিক হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। হৃদরোগের চিকিৎসায় এতদিন প্রধান মনোযোগ ছিল রক্তনালি, পেশি কিংবা বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর। কিন্তু যদি হৃদয়ের নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে যেসব রোগীর হৃদস্পন্দন হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে যায়, কিংবা তীব্র মানসিক বা শারীরিক চাপের পর গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই স্নায়বিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা প্রযুক্তি বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হৃদয়কে নতুনভাবে দেখার সময়

বিজ্ঞান প্রায়ই আমাদের পরিচিত ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে শেখায়। হৃদয়ের এই ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’ তারই একটি উদাহরণ। এটি মানুষের চিন্তা বা স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে না, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে মৌলিক ছন্দ—হৃদস্পন্দন—অটুট রাখতে নীরবে কাজ করে যায়।

এই আবিষ্কার মনে করিয়ে দেয়, মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। হৃদয় শুধু রক্ত সঞ্চালনের যন্ত্র নয়; এর ভেতরেও রয়েছে সূক্ষ্ম স্নায়বিক সমন্বয়ের এক বিস্ময়কর জগৎ, যা বিশেষ করে সংকটের মুহূর্তে আমাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে?

হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

০৯:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মানুষের হৃদস্পন্দনকে আমরা সাধারণত মস্তিষ্কের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া হিসেবে কল্পনা করি। বহু দশক ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানও এই ধারণার ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই চিত্রটি অসম্পূর্ণ। হৃদয়ের ভেতরেই এমন একটি স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা শুধু মস্তিষ্কের নির্দেশ পালন করে না; বরং নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে হৃদস্পন্দনকে স্থিতিশীল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তীব্র মানসিক বা শারীরিক চাপের সময় এই অভ্যন্তরীণ স্নায়বিক নেটওয়ার্কই জীবন রক্ষার শেষ প্রতিরক্ষা হতে পারে।

এই আবিষ্কার হৃদয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। হৃদয়কে শুধু একটি পাম্প হিসেবে নয়, বরং সীমিত হলেও নিজস্ব স্নায়বিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি অঙ্গ হিসেবেও দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হৃদয়ের ভেতরের স্নায়বিক জগৎ

মানবদেহে অন্ত্রের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এখন বিজ্ঞানীরা একই ধরনের একটি জটিল স্নায়বিক ব্যবস্থা হৃদয়ের মধ্যেও চিহ্নিত করছেন, যাকে বলা হয় ইনট্রিনসিক কার্ডিয়াক নার্ভাস সিস্টেম। হৃদয়ের চারপাশের চর্বিযুক্ত অংশে অবস্থিত এই স্নায়ুকোষগুলো মস্তিষ্কের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে, আবার নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখে।

এতদিন এই স্নায়ুতন্ত্রের প্রকৃত ভূমিকা স্পষ্ট ছিল না। কারণ হৃদয়ের মোট কোষের তুলনায় এসব নিউরনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে তাদের শনাক্ত করা এবং কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকেরা এখন এই ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক নেটওয়ার্ককে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

সব নিউরনের কাজ এক নয়

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—হৃদয়ের সব স্নায়ুকোষ একই ধরনের কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা অন্তত দুটি আলাদা নিউরন গোষ্ঠী শনাক্ত করেছেন, যাদের দায়িত্বও ভিন্ন।

একটি গোষ্ঠী হৃদস্পন্দনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিউরনগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় অতিরিক্ত দ্রুত হৃদস্পন্দন কমিয়ে আনে এবং হৃদয়ের ছন্দ বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে দিলে হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অন্যদিকে দ্বিতীয় গোষ্ঠীর ভূমিকা প্রথমে রহস্যময় মনে হয়েছিল। এগুলোকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার পরও পরীক্ষাধীন প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল না। ফলে ধারণা হয়েছিল, হয়তো এদের গুরুত্ব সীমিত।

কিন্তু সেই ধারণা বদলে যায় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে।

চাপের মুহূর্তেই প্রকাশ পেল আসল ভূমিকা

রক্তচাপ পরিমাপের মতো সাধারণ পরীক্ষার সময় কয়েকটি পরীক্ষাধীন প্রাণী হঠাৎ মারা যায়। পরে বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব প্রাণীর নির্দিষ্ট ধরনের নিউরন কার্যকর ছিল না, তাদের বড় একটি অংশ সামান্য চাপের মধ্যেই হৃদস্পন্দনের আকস্মিক পতনের শিকার হয় এবং আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না।

এরপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে একই পরীক্ষা চালানো হলে একই ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ এই নিউরনগুলো স্বাভাবিক সময়ে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও সংকটের মুহূর্তে হৃদয়ের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বিপরীতে, এই স্নায়ুকোষগুলোকে সক্রিয় করা হলে চাপের মধ্যে প্রাণীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

এই পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দেয় যে হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতন্ত্র শুধু দৈনন্দিন ছন্দ বজায় রাখে না; বরং বিপদের মুহূর্তে হৃদয়কে ধসে পড়া থেকে রক্ষাও করে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

এই গবেষণা এখনো প্রাণীভিত্তিক হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। হৃদরোগের চিকিৎসায় এতদিন প্রধান মনোযোগ ছিল রক্তনালি, পেশি কিংবা বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর। কিন্তু যদি হৃদয়ের নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে যেসব রোগীর হৃদস্পন্দন হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে যায়, কিংবা তীব্র মানসিক বা শারীরিক চাপের পর গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই স্নায়বিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা প্রযুক্তি বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হৃদয়কে নতুনভাবে দেখার সময়

বিজ্ঞান প্রায়ই আমাদের পরিচিত ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে শেখায়। হৃদয়ের এই ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’ তারই একটি উদাহরণ। এটি মানুষের চিন্তা বা স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে না, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে মৌলিক ছন্দ—হৃদস্পন্দন—অটুট রাখতে নীরবে কাজ করে যায়।

এই আবিষ্কার মনে করিয়ে দেয়, মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। হৃদয় শুধু রক্ত সঞ্চালনের যন্ত্র নয়; এর ভেতরেও রয়েছে সূক্ষ্ম স্নায়বিক সমন্বয়ের এক বিস্ময়কর জগৎ, যা বিশেষ করে সংকটের মুহূর্তে আমাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।