১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত না হলে সামরিক শক্তিও ভঙ্গুর অযৌক্তিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফাঁদ: কেন বুদ্ধিমান মানুষও টাকার ক্ষেত্রে ভুল করেন জ্বালানির নতুন ভূরাজনীতি: লোহিত সাগরের সংকট কি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দেবে? মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ? হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ বড় পতনে, ডিএসইএক্স কমল ৬৬ পয়েন্ট

মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু

বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হার শুধু একটি শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার গল্প নয়। এটি এমন একটি মুহূর্ত, যখন আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে যে দলটি লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, সেই প্রকল্প এখন একটি নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে।

পরাজয় কখনো কখনো জয়ের চেয়েও বড় শিক্ষা দেয়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও সেটিই সত্য। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু একটি হার নয়; বরং মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ, কোচ লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী পরিকল্পনা এবং নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি।

মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি এমন ফুটবল খেলেছেন, যা তাঁর বার্সেলোনা-যুগের সেরা সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা না হলেও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের খুব বেশি অবকাশ নেই।

ফুটবলের ইতিহাসে অবসর ঘোষণা করে ফিরে আসার নজির আছে। কিন্তু মেসির বক্তব্য থেকে তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছেন। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর অধ্যায় এখানেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে একটি প্রশ্ন এখনও খোলা রয়ে গেছে। বিশ্বকাপকে বিদায় জানানো মানেই কি আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায়? ২০০৫ সাল থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলা এই কিংবদন্তি আদৌ আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

ফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি লিখেছিলেন, তাঁর কাছে এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান অংশ শুধু ট্রফি নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে একই সতীর্থদের সঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্ত পার করা এবং একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। সেই বক্তব্যই বোঝায়, তাঁর কাছে এই অধ্যায়ের মূল্য ফলাফলের চেয়েও বড়।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন স্কালোনিকে ঘিরে। ডিসেম্বরেই তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির বিষয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মৌখিক সমঝোতা ইতোমধ্যেই হয়েছে।

২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় স্কালোনিকে খুব কম মানুষই ভবিষ্যতের সফল কোচ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। পেশাদার পর্যায়ে প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। উপরন্তু, তিনি এমন একটি দল হাতে পান, যারা ১৯৯৩ সালের পর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি।

সে সময় স্কালোনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনাকে বাস্তবতা মেনে চলতে হবে; তারা তখনও বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে নয়। কয়েক বছরের মধ্যে সেই মূল্যায়নই বদলে যায়।

তিনি শুধু একটি দল গড়েননি, বরং একটি নতুন ফুটবল দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বল দখলভিত্তিক খেলা, সৃজনশীল ফুটবলারদের স্বাধীনতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা নতুন পরিচয় ফিরে পায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে মেসি ছিলেন কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু পুরো দল ছিল সমানভাবে দায়িত্বশীল।

এই দর্শনের ফলও এসেছে ধারাবাহিকভাবে। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ—প্রায় প্রতিটি বড় ফাইনালেই আর্জেন্টিনা বিজয়ী হয়েছে। ব্যতিক্রম কেবল স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ এই বিশ্বকাপ ফাইনাল।

যদি স্কালোনি দায়িত্বে থেকে যান, তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একটি পরাজিত দলকে মানসিকভাবে পুনর্গঠন করা এবং মেসি-পরবর্তী যুগের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো দাঁড় করানো।

এই রূপান্তর সহজ হবে না। বিশ্বকাপ শুরুর সময় আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের অপেক্ষাকৃত বয়স্ক দলগুলোর একটি। নিয়মিত একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার অবস্থায় থাকবেন না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দে পল—সবার বয়সই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে চার বছর পর বিশ্বকাপে থাকা কঠিন হবে। নিকোলাস ওতামেন্দি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিওভানি লো সেলসোসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবেন।

তবু আর্জেন্টিনার জন্য আশার জায়গা রয়েছে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্তিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেজ এবং থিয়াগো আলমাদা—এই প্রজন্ম ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। মেসির অনুপস্থিতিতে তারাই নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় বিনিয়োগ করতে হবে তরুণদের ওপর। ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, নিকো পাস, ভ্যালেন্তিন বারকো কিংবা হোয়াকিন পানিচেল্লির মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের ধীরে ধীরে বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। একটি সফল প্রজন্মের বিদায়ের পর আরেকটি সফল প্রজন্ম তৈরি করাই এখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মেসির যুগ শেষ হওয়া মানেই আর্জেন্টিনার সাফল্যের সমাপ্তি নয়। তবে এটি এমন এক সন্ধিক্ষণ, যেখানে আবেগের চেয়ে পরিকল্পনা, স্মৃতির চেয়ে ভবিষ্যৎ এবং একজন কিংবদন্তির ওপর নির্ভরতার বদলে একটি নতুন দল গড়ে তোলার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে আর্জেন্টিনা আগামী দশকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরতে পারবে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু

মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু

১০:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হার শুধু একটি শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার গল্প নয়। এটি এমন একটি মুহূর্ত, যখন আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে যে দলটি লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, সেই প্রকল্প এখন একটি নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে।

পরাজয় কখনো কখনো জয়ের চেয়েও বড় শিক্ষা দেয়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও সেটিই সত্য। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু একটি হার নয়; বরং মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ, কোচ লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী পরিকল্পনা এবং নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি।

মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি এমন ফুটবল খেলেছেন, যা তাঁর বার্সেলোনা-যুগের সেরা সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা না হলেও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের খুব বেশি অবকাশ নেই।

ফুটবলের ইতিহাসে অবসর ঘোষণা করে ফিরে আসার নজির আছে। কিন্তু মেসির বক্তব্য থেকে তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছেন। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর অধ্যায় এখানেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে একটি প্রশ্ন এখনও খোলা রয়ে গেছে। বিশ্বকাপকে বিদায় জানানো মানেই কি আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায়? ২০০৫ সাল থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলা এই কিংবদন্তি আদৌ আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

ফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি লিখেছিলেন, তাঁর কাছে এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান অংশ শুধু ট্রফি নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে একই সতীর্থদের সঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্ত পার করা এবং একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। সেই বক্তব্যই বোঝায়, তাঁর কাছে এই অধ্যায়ের মূল্য ফলাফলের চেয়েও বড়।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন স্কালোনিকে ঘিরে। ডিসেম্বরেই তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির বিষয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মৌখিক সমঝোতা ইতোমধ্যেই হয়েছে।

২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় স্কালোনিকে খুব কম মানুষই ভবিষ্যতের সফল কোচ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। পেশাদার পর্যায়ে প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। উপরন্তু, তিনি এমন একটি দল হাতে পান, যারা ১৯৯৩ সালের পর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি।

সে সময় স্কালোনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনাকে বাস্তবতা মেনে চলতে হবে; তারা তখনও বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে নয়। কয়েক বছরের মধ্যে সেই মূল্যায়নই বদলে যায়।

তিনি শুধু একটি দল গড়েননি, বরং একটি নতুন ফুটবল দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বল দখলভিত্তিক খেলা, সৃজনশীল ফুটবলারদের স্বাধীনতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা নতুন পরিচয় ফিরে পায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে মেসি ছিলেন কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু পুরো দল ছিল সমানভাবে দায়িত্বশীল।

এই দর্শনের ফলও এসেছে ধারাবাহিকভাবে। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ—প্রায় প্রতিটি বড় ফাইনালেই আর্জেন্টিনা বিজয়ী হয়েছে। ব্যতিক্রম কেবল স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ এই বিশ্বকাপ ফাইনাল।

যদি স্কালোনি দায়িত্বে থেকে যান, তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একটি পরাজিত দলকে মানসিকভাবে পুনর্গঠন করা এবং মেসি-পরবর্তী যুগের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো দাঁড় করানো।

এই রূপান্তর সহজ হবে না। বিশ্বকাপ শুরুর সময় আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের অপেক্ষাকৃত বয়স্ক দলগুলোর একটি। নিয়মিত একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার অবস্থায় থাকবেন না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দে পল—সবার বয়সই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে চার বছর পর বিশ্বকাপে থাকা কঠিন হবে। নিকোলাস ওতামেন্দি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিওভানি লো সেলসোসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবেন।

তবু আর্জেন্টিনার জন্য আশার জায়গা রয়েছে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্তিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেজ এবং থিয়াগো আলমাদা—এই প্রজন্ম ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। মেসির অনুপস্থিতিতে তারাই নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় বিনিয়োগ করতে হবে তরুণদের ওপর। ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, নিকো পাস, ভ্যালেন্তিন বারকো কিংবা হোয়াকিন পানিচেল্লির মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের ধীরে ধীরে বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। একটি সফল প্রজন্মের বিদায়ের পর আরেকটি সফল প্রজন্ম তৈরি করাই এখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মেসির যুগ শেষ হওয়া মানেই আর্জেন্টিনার সাফল্যের সমাপ্তি নয়। তবে এটি এমন এক সন্ধিক্ষণ, যেখানে আবেগের চেয়ে পরিকল্পনা, স্মৃতির চেয়ে ভবিষ্যৎ এবং একজন কিংবদন্তির ওপর নির্ভরতার বদলে একটি নতুন দল গড়ে তোলার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে আর্জেন্টিনা আগামী দশকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরতে পারবে কি না।