ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই আরও কঠোর অবস্থানের দিকে ঝুঁকছেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে যে সংঘাতের আশা করা হয়েছিল, তা এখন পঞ্চম মাসে গড়িয়েছে। এর ফলে হোয়াইট হাউসের ভেতরে যেমন উদ্বেগ বেড়েছে, তেমনি যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ক্ষোভ
প্রশাসনের ভেতরের আলোচনায় ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তার ধারণা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক চাপই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এখন মনে করছেন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখা ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। সে কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ
গত কয়েক মাসে যুদ্ধ থামাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। সম্প্রতি লোহিত সাগরে জ্বালানি বহনকারী জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও দ্রুত বেড়ে যায়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যদি মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। সংঘাতে মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণহানি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসমর্থনে প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের অনেক নেতাই উদ্বিগ্ন।
দলটির একাংশের মতে, যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ট্রাম্প নিজে যুদ্ধের রাজনৈতিক ক্ষতির চেয়ে সংঘাতের সামরিক দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধ পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে।
একই সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাদের চলাচল ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কূটনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
যুদ্ধ শুরুর পর কূটনৈতিক সমাধানের আশা থাকলেও এখন সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। প্রশাসনের ভেতরে একাংশ এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা করলেও অন্যরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব কমাতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















