ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কোনো প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের লক্ষ্য পূরণে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে মস্কো।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে রাশিয়া মনে করে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সমাধানের প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনা করবে মস্কো।
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার দরজা খোলা রাখছে মস্কো
পেসকভ বলেন, শান্তির সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় রাশিয়া সামরিক পথেই এগিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের জন্য অপেক্ষা করবে দেশটি।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে যে সমাধান প্রস্তাব দিয়েছিল, রাশিয়া তা গ্রহণ করলেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ক্রেমলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না। তবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানেও রয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে দ্বৈত অবস্থান বলছে রাশিয়া
পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিকে অস্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, একদিকে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে।
তবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের মধ্য থেকে নিজেদের জন্য সুযোগ কাজে লাগাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মস্কোর দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রাশিয়ার স্বার্থের সঙ্গে মিল রয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের মস্কোতে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত তারা। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।
ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। রাশিয়া আলোচনার অপেক্ষায় থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো উদ্যোগ যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















