বাংলাদেশের নতুন দুই কূটনৈতিক কর্মকর্তার নিয়োগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চললেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা
নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লি ও কলকাতার মিশনে দুই কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে ভারত অবগত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী।
ভারতীয় পক্ষের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সাম্প্রতিক বিতর্কে প্রকাশ্যে জড়াতে না চেয়ে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে নীরবতা
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তা অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত সম্পর্কে সমালোচনামূলক মত প্রকাশ করেছিলেন। এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মুখপাত্র কেবল জানান, নতুন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রয়েছে।
ব্রিকস ও সম্ভাব্য সফর প্রসঙ্গেও সতর্ক অবস্থান
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগামী ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেননি। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যে আলোচনা চলছে, সে সম্পর্কেও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ভারত। এতে স্পষ্ট হয়েছে, বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশেই গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই জোর
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের পর ভারতের সংযত প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের পথেই এগোতে চায় উভয় পক্ষ।
ভারত জানিয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















