গাজায় চলমান মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
অর্থসংকটে ত্রাণ কার্যক্রমের চাপ
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে তারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। তবে দ্রুত নতুন অর্থের ব্যবস্থা না হলে এই কার্যক্রম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চারশ বিশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
সংস্থাটি বলছে, অর্থসংকটের কারণে ইতোমধ্যে অনেক কর্মসূচিতে কাটছাঁট শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে অক্টোবর থেকে সহায়তা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে হতে পারে।
ক্ষুধা কিছুটা কমলেও ঝুঁকি কাটেনি
সাম্প্রতিক খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়নে দেখা গেছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত গাজায় তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবুও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশ্লেষণে আশঙ্কা করা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ১৪ লাখের বেশি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, আবারও তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে। মানবিক সহায়তা কমে গেলে সাম্প্রতিক অগ্রগতিও নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ প্রভাব
দীর্ঘদিনের সংঘাত, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং সহায়তা পৌঁছানোর নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গাজার অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় ত্রাণ কমে গেলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
![]()
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, চলতি মাসেই ৭৫ হাজার মানুষের নগদ সহায়তা এক-চতুর্থাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি দুই লাখ বিশ হাজার পরিবারের খাদ্য রেশনও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
দাতাদের আগ্রহ কমে যাওয়াই বড় কারণ
সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহ কমে যাওয়া। বিশ্বের বিভিন্ন নতুন সংকটের দিকে মনোযোগ সরে যাওয়ায় গাজার জন্য অর্থ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজায় খাদ্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে না এবং যুদ্ধবিরতির পর থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রবেশে সহায়তা করেছে।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপরই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















