চীনের নতুন ধরনের পারমাণবিকচালিত হামলাকারী ডুবোজাহাজ নির্মাণের ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে এমন একটি ডুবোজাহাজের উপস্থিতি দেখা গেছে, যার নকশায় আগের মডেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আভাস রয়েছে।
উপগ্রহচিত্রে নতুন নকশার ইঙ্গিত
সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে সাংহাইয়ের একটি জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে একটি অচেনা ডুবোজাহাজ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি চীনের নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক হামলাকারী ডুবোজাহাজ হতে পারে। বিশেষভাবে এর উপরের উঁচু অংশ আগের পরিচিত মডেলগুলোর তুলনায় অনেক ছোট, যা ডুবোজাহাজটির পানির নিচে চলাচলকে আরও নীরব ও গোপন করতে সহায়ক হতে পারে।
গোপন অভিযানে বাড়তে পারে সক্ষমতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নকশাগত এই পরিবর্তনের ফলে ডুবোজাহাজটির শব্দ কম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং নজর এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়তে পারে। আধুনিক নৌযুদ্ধে এ ধরনের বৈশিষ্ট্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের নজরে নতুন ডুবোজাহাজ
চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে একজন নৌবাহিনী বিশ্লেষক প্রথম এই ডুবোজাহাজটির বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন। এরপর আরও কয়েকটি নতুন উপগ্রহচিত্র প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আগ্রহ আরও বাড়ে। যদিও চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন আলোচনার বিষয়
যদি এটি সত্যিই নতুন শ্রেণির পারমাণবিক হামলাকারী ডুবোজাহাজ হয়, তবে তা চীনের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উন্নয়ন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
চীনের প্রতিরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে। নতুন এই ডুবোজাহাজের প্রকৃত সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















