ভারতের সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো সবাইকে সংযম ও সহানুভূতি দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি বৃহত্তর জনস্বার্থে দীর্ঘদিন অনশন করে ওয়াংচুক যে শারীরিক মূল্য দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সমালোচনা নয়, মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
সরকারও আশা প্রকাশ করেছে, ওয়াংচুকের এই সিদ্ধান্ত চলমান প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনার পথ সুগম করবে।
অনশন নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গীতাঞ্জলি আংমো লিখেছেন, কোনো মন্তব্য বা সমালোচনার আগে মানুষের উচিত ২৬ দিন ধরে একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যে অনশন করার মানসিক ও নৈতিক শক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
তিনি জানান, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। এই সময়ে তার শরীরের ১১ কেজি ওজন কমেছে, যার মধ্যে পেশির ভরও রয়েছে। তার ভাষায়, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে আত্মত্যাগকে বেছে নেওয়া একজন মানুষ অন্তত একদিনের জন্য সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য।
![]()
তিনি আরও বলেন, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করা একটি জীবনের মূল্যায়ন করার আগে সেই নৈতিক অবস্থানে পৌঁছানো প্রয়োজন। তাই সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মধ্যরাতে অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুক তার অনশন ভাঙেন।
যে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি অনশন করছিলেন, তার অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দিপকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করেছেন যে, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংলাপের আহ্বানকে স্বাগত
ভারতীয় জনতা পার্টির অন্তত দুই জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাংসদ ওয়াংচুকের সংলাপের আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তাদের মতে, আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।
ওয়াংচুক নিজেও এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেন, দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা এবং সরকারের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার দাবি, সরকার এবং বিরোধী দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি ও ব্যর্থতা নিয়ে বিষয়টি সংসদে আলোচনা হবে।
সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে স্ত্রীর ভূমিকা
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওয়াংচুককে অনশন ভাঙাতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।
সূত্রটির দাবি, তিনি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং ওয়াংচুককে আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য রাজি করাতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি অনশন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো শর্ত আরোপের পক্ষেও ছিলেন না।
এর আগে গীতাঞ্জলি আংমো কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিরও সমালোচনা করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, বিরোধী দল ওয়াংচুকের ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন ভাঙার পর তার স্ত্রীর মানবিক আবেদন এবং সরকারের সংলাপের উদ্যোগ নতুন করে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















