০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
এশিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে আমেরিকার সামরিক শক্তি—ট্রাম্পের নীতিতে বাড়ছে নতুন দ্বন্দ্ব পাঞ্জাবে কমেছে চেনাবের বন্যা, ২৯ জুলাই থেকে নতুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন আল-আজম’: ১৬ সশস্ত্র সদস্য নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার পলকের দাবি: আমার বিরুদ্ধে ৯৮ মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম; কারাগারে সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আদালতে আবেদন এক লাখ টাকার ঋণ, এক বছরের বন্দিজীবন: পাথর কাটতে কাটতে মুক্তি পেলেন চার শ্রমিক ভোটের আগে আশীর্বাদ, ভোটের পর অনিশ্চয়তা: মহারাষ্ট্রের বিধবা কৃষাণীদের ভরসা কি হারাচ্ছে? ডিএনএর ভুলে আর নয়! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে জিন চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত বৈশ্বিক দক্ষিণেই আগ্রাসী প্রজাতির পরিবেশগত ক্ষতি বেশি, বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি একটি পরীক্ষার ওপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা উচিত নয় ধানক্ষেতেই বাড়ছে জলবায়ুর বিপদ, ভারতের ধান চাষে মিথেন নিঃসরণে বড় উদ্বেগ

মহারাষ্ট্র টিইটি প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড়

মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টিইটি)-২০২৬-এর প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভিওয়ান্ডি পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে।

এই গ্রেপ্তারকে প্রশ্নফাঁস চক্রের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে পুরো চক্রের কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

প্রশ্নফাঁস তদন্তে আগেই ১০ জন গ্রেপ্তার

গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা গোপনে তা বাইরে পাচার করেন। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। সে সময় বিজেন্দ্র গুপ্ত পলাতক ছিলেন।

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৯ | কালবেলা

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন নরেশকুমার পুরণচাঁদ মাহোরে (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে যায়

এসআইটির অভিযোগ অনুযায়ী, নরেশকুমার মাহোরে ছাপাখানা থেকেই গোপন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক পলাতক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, সঞ্জয় শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন। অন্যদিকে সোনু কুমারও একই বিভাগে কাজ করেছিলেন। ফলে ছাপাখানার কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তাদের পূর্বপরিচিতি ছিল, যা কাজে লাগিয়ে তারা গোপন প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এরপর এই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের কাছে সরবরাহ করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী এবং সমন্বয়কারী ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

Three held in Maharashtra TET paper leak case; examination postponed |  Akashvani News

তদন্তে আরও তথ্যের সন্ধান

সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের সম্পর্ক কতদিনের, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে তারা কত অর্থ পেয়েছিলেন এবং ষড়যন্ত্রে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় উদঘাটনের জন্যই তাদের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে বলেন, ওই গুলি উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা দিয়েছে। এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজেন্দ্র গুপ্তের গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা এখন পুরো প্রশ্নফাঁস চক্র, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা উদঘাটনে আরও জোরালোভাবে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে আমেরিকার সামরিক শক্তি—ট্রাম্পের নীতিতে বাড়ছে নতুন দ্বন্দ্ব

মহারাষ্ট্র টিইটি প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড়

০১:১৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টিইটি)-২০২৬-এর প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভিওয়ান্ডি পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে।

এই গ্রেপ্তারকে প্রশ্নফাঁস চক্রের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে পুরো চক্রের কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

প্রশ্নফাঁস তদন্তে আগেই ১০ জন গ্রেপ্তার

গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা গোপনে তা বাইরে পাচার করেন। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। সে সময় বিজেন্দ্র গুপ্ত পলাতক ছিলেন।

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৯ | কালবেলা

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন নরেশকুমার পুরণচাঁদ মাহোরে (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে যায়

এসআইটির অভিযোগ অনুযায়ী, নরেশকুমার মাহোরে ছাপাখানা থেকেই গোপন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক পলাতক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, সঞ্জয় শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন। অন্যদিকে সোনু কুমারও একই বিভাগে কাজ করেছিলেন। ফলে ছাপাখানার কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তাদের পূর্বপরিচিতি ছিল, যা কাজে লাগিয়ে তারা গোপন প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এরপর এই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের কাছে সরবরাহ করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী এবং সমন্বয়কারী ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

Three held in Maharashtra TET paper leak case; examination postponed |  Akashvani News

তদন্তে আরও তথ্যের সন্ধান

সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের সম্পর্ক কতদিনের, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে তারা কত অর্থ পেয়েছিলেন এবং ষড়যন্ত্রে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় উদঘাটনের জন্যই তাদের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে বলেন, ওই গুলি উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা দিয়েছে। এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজেন্দ্র গুপ্তের গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা এখন পুরো প্রশ্নফাঁস চক্র, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা উদঘাটনে আরও জোরালোভাবে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।