মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টিইটি)-২০২৬-এর প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভিওয়ান্ডি পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে।
এই গ্রেপ্তারকে প্রশ্নফাঁস চক্রের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে পুরো চক্রের কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁস তদন্তে আগেই ১০ জন গ্রেপ্তার
গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা গোপনে তা বাইরে পাচার করেন। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। সে সময় বিজেন্দ্র গুপ্ত পলাতক ছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন নরেশকুমার পুরণচাঁদ মাহোরে (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে যায়
এসআইটির অভিযোগ অনুযায়ী, নরেশকুমার মাহোরে ছাপাখানা থেকেই গোপন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক পলাতক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেন।
তদন্তকারীদের দাবি, সঞ্জয় শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন। অন্যদিকে সোনু কুমারও একই বিভাগে কাজ করেছিলেন। ফলে ছাপাখানার কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তাদের পূর্বপরিচিতি ছিল, যা কাজে লাগিয়ে তারা গোপন প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এরপর এই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের কাছে সরবরাহ করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী এবং সমন্বয়কারী ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

তদন্তে আরও তথ্যের সন্ধান
সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের সম্পর্ক কতদিনের, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে তারা কত অর্থ পেয়েছিলেন এবং ষড়যন্ত্রে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় উদঘাটনের জন্যই তাদের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে বলেন, ওই গুলি উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা দিয়েছে। এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজেন্দ্র গুপ্তের গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা এখন পুরো প্রশ্নফাঁস চক্র, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা উদঘাটনে আরও জোরালোভাবে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















