ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। সরকার যদি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না জানায়, তবে চলমান আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের নেতারা।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার সিজেপি জানায়, ক্ষতিপূরণ ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও তাদের প্রধান দাবি—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সরকারের কাছে স্পষ্ট উত্তর চায় সিজেপি
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ক্ষতিপূরণ ও আইনি বিষয় নিয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে এবং সেটির লিখিত নিশ্চয়তা পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

তার ভাষায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকার-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন না। যদি সেটিই সরকারের অবস্থান হয়, তবে সেটি প্রকাশ্যে জানানো উচিত। অন্যথায় বারবার বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এরপর দল তাদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে।
শনিবার বিকেলে সরকারের সঙ্গে নতুন দফা বৈঠকের আগে রাঙ্কা বলেন, সরকারকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’—এই দুইয়ের একটি স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে। কারণ এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আর সুযোগ নেই বলে তারা মনে করেন।
এনটিএতে পরিবর্তন যথেষ্ট নয়
সম্প্রতি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৪৭ কর্মকর্তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিজেপির মতে, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নের সমাধান নয়।
রাঙ্কা বলেন, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তার দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এবং আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর জন্য রাজনৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই বর্তায়। তাই তার পদত্যাগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে বহাল রয়েছে।
তিনি জানান, বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কারের জন্য সিজেপি সরকারের কাছে একটি দাবিপত্রও জমা দিয়েছে, তবে সেই সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিও অপরিহার্য।
কেন্দ্রের সংস্কার উদ্যোগ
এদিকে এনটিএ জানিয়েছে, সাবেক ইসরো চেয়ারম্যান কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংস্থাটিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জেনারেল ম্যানেজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ইউপিএসসির ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন ইয়াং প্রফেশনাল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪ আরও শক্তিশালী করতে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য প্রশ্নফাঁসসহ পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে মন্তব্যের জবাব
আলোচনায় সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ও উঠে আসে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের সমালোচনার জবাবে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যিনি দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে ২৬ দিন অনশন করেছেন, তাকে ব্যক্তিগত সমঝোতার অভিযোগে আক্রমণ করা অনুচিত।
তিনি বলেন, ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের পেছনে সরকারের লিখিত আশ্বাস ছিল এবং তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমর্থনযোগ্য নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















