০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

‘ককরোচ’ মন্তব্যের জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানালেন অভিজিৎ দিপকে

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, এই আন্দোলনের সূচনাই হয়েছিল ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রধান বিচারপতিকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ধন্যবাদ জানান।

দিপকে বলেন, “আমি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি আমাদের ‘ককরোচ’ না বলতেন, তাহলে আমি ভারতে ফিরতাম না, আর এই আন্দোলনেরও জন্ম হতো না।”

কীভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন

এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনোনয়ন সংক্রান্ত এক শুনানির সময়। সে সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, “ককরোচের মতো অনেক তরুণ রয়েছে, যাদের কোনো কাজ নেই এবং পেশায়ও কোনো জায়গা নেই।”

পরবর্তীতে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়; বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গেই করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে সেই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মন্তব্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথে

Jantar Mantar protest a trailer, Pradhan must resign in 7 days: CJP founder  Dipke - The Tribune

তখন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অধ্যয়নরত এবং এর আগে আম আদমি পার্টির যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করা অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান। একই দিনে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠনের ঘোষণা দেন।

তিনি এটিকে “সব ককরোচদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে তুলে ধরেন। সেখানে সদস্য হওয়ার ব্যঙ্গাত্মক যোগ্যতার মধ্যে ছিল— বেকার হওয়া, অলস হওয়া, অধিকাংশ সময় অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারা।

মে মাসের শেষ দিকে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। জুনের শুরুতে দিপকে ভারতে ফিরে এসে যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন।

আন্দোলনের দাবি ও সরকারের অবস্থান

আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

Sonam Wangchuk vows to continue fast until students meet lawmakers | The  Business Standard

পরে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তিনি তা প্রত্যাহার করেন, যখন কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে কয়েকটি আশ্বাস দেয়।

সরকার জানায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি তোলা হবে এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তবে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ককরোচ জনতা পার্টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সরকার চাপের মুখে নতি স্বীকার করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান পরিস্থিতি থেকে “রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি” যেন সুবিধা নিতে না পারে, সেটিও তাঁর সিদ্ধান্তের একটি বিবেচ্য বিষয় ছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

‘ককরোচ’ মন্তব্যের জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানালেন অভিজিৎ দিপকে

০৪:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, এই আন্দোলনের সূচনাই হয়েছিল ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রধান বিচারপতিকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ধন্যবাদ জানান।

দিপকে বলেন, “আমি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি আমাদের ‘ককরোচ’ না বলতেন, তাহলে আমি ভারতে ফিরতাম না, আর এই আন্দোলনেরও জন্ম হতো না।”

কীভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন

এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনোনয়ন সংক্রান্ত এক শুনানির সময়। সে সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, “ককরোচের মতো অনেক তরুণ রয়েছে, যাদের কোনো কাজ নেই এবং পেশায়ও কোনো জায়গা নেই।”

পরবর্তীতে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়; বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গেই করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে সেই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মন্তব্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথে

Jantar Mantar protest a trailer, Pradhan must resign in 7 days: CJP founder  Dipke - The Tribune

তখন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অধ্যয়নরত এবং এর আগে আম আদমি পার্টির যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করা অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান। একই দিনে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠনের ঘোষণা দেন।

তিনি এটিকে “সব ককরোচদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে তুলে ধরেন। সেখানে সদস্য হওয়ার ব্যঙ্গাত্মক যোগ্যতার মধ্যে ছিল— বেকার হওয়া, অলস হওয়া, অধিকাংশ সময় অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারা।

মে মাসের শেষ দিকে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। জুনের শুরুতে দিপকে ভারতে ফিরে এসে যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন।

আন্দোলনের দাবি ও সরকারের অবস্থান

আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

Sonam Wangchuk vows to continue fast until students meet lawmakers | The  Business Standard

পরে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তিনি তা প্রত্যাহার করেন, যখন কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে কয়েকটি আশ্বাস দেয়।

সরকার জানায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি তোলা হবে এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তবে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ককরোচ জনতা পার্টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সরকার চাপের মুখে নতি স্বীকার করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান পরিস্থিতি থেকে “রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি” যেন সুবিধা নিতে না পারে, সেটিও তাঁর সিদ্ধান্তের একটি বিবেচ্য বিষয় ছিল।