যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় মুসলিম সমাবেশ ‘জালসা সালানা’ এবার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন তাৎপর্য নিয়ে শুরু হচ্ছে। দেশটির হ্যাম্পশায়ারের অলটনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আয়োজকদের আশা, বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এতে অংশ নেবেন।
নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের আরেকটি বড় ধর্মীয় সমাবেশ সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার জালসা সালানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের জানানো হয়েছে, কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী পুরো আয়োজন পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরাও সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবেন।
বিশ্বজুড়ে অংশগ্রহণ
আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ধর্মীয় আলোচনা, বিভিন্ন মতবিনিময় সভা এবং সামাজিক সম্প্রীতিবিষয়ক নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে এটি আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এবারের সমাবেশে প্রধান বক্তব্য দেবেন আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বনেতা হজরত মির্জা মাসরুর আহমদ। তিনি বলেন, এই সমাবেশ শান্তি, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য উদাহরণ। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামকে সংঘাত ও অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা আন্তরিক মুসলমানদের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে যুক্তরাজ্যে সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মনে করেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় দেশটি এখন বেশি বিভক্ত। একই সঙ্গে অনেকের মত, ব্রিটিশ মুসলমানদের ইতিবাচক অবদান সমাজে যথেষ্ট স্বীকৃতি পায় না।
আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন মুখপাত্র বলেন, বিভাজন দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সংলাপ। মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়লে ভুল ধারণা দূর হবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সম্প্রদায়টির পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি মসজিদের প্রতিকৃতি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকেও কঠোরভাবে নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা
সব মিলিয়ে ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এবারের জালসা সালানা শুধু একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়, বরং বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যেও বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের অংশগ্রহণ এই সমাবেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ এবং সম্প্রীতির বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।
যুক্তরাজ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬০তম জালসা সালানায় বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















