বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিকল্প বাণিজ্য রুট তৈরিতে আরও সক্রিয় হয়েছে চীন। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার স্থলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে এখন নতুন মাত্রা দেওয়া হচ্ছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে উজবেকিস্তানের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে নতুন মালবাহী করিডর চালু করা হয়েছে।
সমুদ্রপথের বিকল্প খুঁজছে বেইজিং
বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নানা ধরনের বিঘ্ন ও নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় স্থলভিত্তিক বাণিজ্য রুটের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় মধ্য এশিয়া হয়ে বিকল্প সংযোগ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চীন।
আফগানিস্তানের সঙ্গে নতুন করিডর
চলতি বছরের মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নতুন বহুমুখী মালবাহী করিডরের মাধ্যমে কনটেইনারবাহী ট্রেন প্রথমে চীন থেকে কাজাখস্তান হয়ে উজবেকিস্তানে পৌঁছায়। এরপর সড়কপথে তুর্কমেনিস্তান অতিক্রম করে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত শহরে পণ্য পরিবহন করা হয়। এই রুট ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ
যদিও নতুন এই স্থলপথ চীনের জন্য বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও এর সামনে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অল্প সময়ে সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সহজ হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থলপথের ব্যবহার বাড়লেও সমুদ্রপথ এখনও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম হিসেবেই থাকবে। তবে বিকল্প রুট তৈরি করা হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমানো এবং সংকটের সময় পণ্য পরিবহন সচল রাখা সহজ হবে।
চীনের এই উদ্যোগ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
মধ্য এশিয়ার স্থলপথে নতুন বাণিজ্য করিডর গড়ে সমুদ্রপথের ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ বাড়িয়েছে চীন। আফগানিস্তান সংযোগে শুরু হয়েছে নতুন পরিবহন ব্যবস্থা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















