পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দাবিতে এবার রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)। দলটির নেতা এবং পাকিস্তানের ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল বলেছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এখন সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যেই জনসমর্থন গড়ে তুলতে তারা মাঠে নামবেন।
করাচিতে দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ধ সরকার এমন নীতি অনুসরণ করছে যার ফলে করাচি দেশের উন্নয়নে তার পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না। তার দাবি, লাহোর উন্নয়নের দিক থেকে বহু দূর এগিয়ে গেলেও সিন্ধের সাধারণ মানুষ এখনও মৌলিক নাগরিক সেবার ঘাটতিতে ভুগছেন।
স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন অবস্থান
মোস্তফা কামাল বলেন, এমকিউএম-পি সংসদে বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন করেছে এবং এ বিষয়ে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাবও জমা দিয়েছে। তবে তাদের প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সংসদীয় রাজনীতির পথ অনুসরণ করার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় এখন জনগণের কাছে সরাসরি যাওয়ার সময় এসেছে। তবে এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।
১৮তম সংশোধনী ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি
এমকিউএম-পি নেতা দাবি করেন, পাকিস্তানের ১৮তম সাংবিধানিক সংশোধনী তার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি নতুন প্রদেশ গঠন এবং স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
তার মতে, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত না হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও জনসেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে না।

নাগরিক সেবা ও শিক্ষা নিয়ে সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে সিন্ধের নাগরিক সেবার মান নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সিন্ধে খোলা নর্দমায় পড়ে শিশুদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রদেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংকট রয়েছে। তার দাবি, লাখ লাখ শিশু এখনও বিদ্যালয়ের বাইরে এবং বহু বালিকা বিদ্যালয়ে শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাও নেই।
করাচির রাজস্ব বণ্টন নিয়ে অভিযোগ
করাচির অর্থনৈতিক অবদান তুলে ধরে মোস্তফা কামাল বলেন, শহরটি পাকিস্তানের মোট রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি এবং সিন্ধের রাজস্বের সিংহভাগ সরবরাহ করে। কিন্তু উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে করাচি তার তুলনায় খুব সামান্য অংশ পায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, এমকিউএম-পি তথ্য-উপাত্তসহ জনগণের সামনে তাদের অবস্থান তুলে ধরবে এবং স্থানীয় সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
করাচির স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে এমকিউএম-পির রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা, সিন্ধ সরকারের সমালোচনা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি নিয়ে প্রতিবেদন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















