ইংল্যান্ডের সাউথপোর্টে নৃত্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে তিন শিশুকে হত্যা এবং আরও ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অ্যাক্সেল রুদাকুবানাকে কারাগার থেকে উচ্চ নিরাপত্তার মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবারগুলোর আইনজীবী ক্রিস ওয়াকার অভিযোগ করেছেন, কারাগার থেকে রুদাকুবানা যেন পরিবারগুলোকে আবারও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পরিস্থিতি তৈরি করছেন। বিশেষ করে হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের খবর প্রকাশ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিন শিশুকে হত্যা, আরও ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা
২০২৪ সালের ২৯ জুলাই সাউথপোর্টে টেলর সুইফটকে ঘিরে আয়োজিত একটি নৃত্য অনুষ্ঠানে ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অ্যালিস দা সিলভা আগিয়ার, বেবে কিং ও এলসি ডট স্ট্যানকম্ব নামে তিন শিশু নিহত হয়। আরও আট শিশু ও দুই প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যাচেষ্টার দায়েও রুদাকুবানা দোষী সাব্যস্ত হন।
পরবর্তীতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হামলার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উগ্র ডানপন্থীদের সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
কারাগার থেকে উচ্চ নিরাপত্তার হাসপাতালে
রুদাকুবানাকে প্রথমে উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে বার্কশায়ারের ব্রডমুর উচ্চ নিরাপত্তার মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে তাকে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানান্তরের কারণে তার সাজা পরিবর্তন হয়নি। মানসিক হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ও তিনি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের আওতায় থাকবেন।
পরিবারকে আগে জানানো হলেও কারণ স্পষ্ট নয়
নিহত তিন শিশুর পরিবারকে ২২ জুলাই চিঠির মাধ্যমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে কেন তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারগুলোকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী ক্রিস ওয়াকার বলেন, তথ্যের ঘাটতি পরিবারের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। হামলার বার্ষিকীর ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসায় বিষয়টি তাদের কাছে আরও উদ্বেগজনক বলে মনে হচ্ছে।
তার মতে, রুদাকুবানার মানসিক অবস্থা নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না থাকায় পরিবারগুলো মনে করছে, ঘটনাটি তাদের জন্য নতুন করে কষ্ট ও মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
হামলার সময় মানসিক বিকারের প্রমাণ নেই
পরিবারগুলোর আইনজীবী আরও বলেছেন, হামলার সময় রুদাকুবানা মানসিক বিকারগ্রস্ত বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তার দাবি, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং সমাজে সর্বোচ্চ আতঙ্ক ও কষ্ট সৃষ্টি করার মতো করে পরিচালিত।
এর আগে রুদাকুবানা কয়েক বছর শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন। স্কুলে ছুরি নিয়ে যাওয়ার পরও তার বিষয়ে চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। পরে তার কম্পিউটারে স্কুলে গণহত্যা নিয়ে অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়ার কারণে উগ্রবাদ প্রতিরোধ কর্মসূচিতেও তাকে পাঠানো হয়। তবে তার সহিংসতার পেছনে স্পষ্ট কোনো আদর্শিক অবস্থান পাওয়া যায়নি বলে সেই উদ্যোগগুলো এগোয়নি।
প্রয়োজনে আবার কারাগারে ফেরানো হবে
ব্রডমুরে থাকা ব্যক্তিদের বন্দিদের মতোই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হলে আইন অনুযায়ী কাউকে আবার কারাগারে ফেরানো সম্ভব।
সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, রুদাকুবানাকে যত দ্রুত সম্ভব কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এক মন্ত্রীও বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
সাউথপোর্ট হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে নিহত শিশুদের পরিবারগুলো যখন আবারও সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতির মুখোমুখি হচ্ছে, তখন রুদাকুবানার স্থানান্তর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারগুলোর প্রধান দাবি, হামলার ভয়াবহতার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারেই সাজা ভোগ করতে দেওয়া হোক।
সাউথপোর্ট হামলার আসামিকে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর ঘিরে নিহত শিশুদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















