০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ইরানে ফের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত বজ্রপাতের পর কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, পুড়েছে ২৯ লাখ হেক্টর বন মেয়ের উচ্চতা বাড়াতে মাসে ৬৬ হাজার টাকা খরচ বাবার, চীনে তুমুল বিতর্ক বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা তালেবানের সাবেক প্রতিপক্ষের সঙ্গে ১৬ বছর পর মুখোমুখি: আফগান যুদ্ধের ক্ষত, অনুতাপ ও ক্ষমার এক বিরল গল্প ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে মুরলী মনোহর যোশীর প্রতিক্রিয়া: ‘দেরিতে হলেও ভালো’, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আবেগঘন মুহূর্ত: ‘ছেলের সংগ্রাম সফল হয়েছে’, কাঁদলেন অভিজিৎ দিপকের মা হুথিদের দাবি: সৌদির জিজান ও ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনায় অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে সাময়িক বিরতি, তবে হরমুজ ও লোহিত সাগরে উত্তেজনা অব্যাহত সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের হাজতির মৃত্যু, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে ৪৭০ পণ্যে ছাড়, বাণিজ্যনীতিতে বড় ভারসাম্যের চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বড় ধরনের ছাড়ের বিষয় সামনে এসেছে। ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর শুক্রবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও চার শতাধিক পণ্যকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কঠোর শুল্কনীতি চালুর পাশাপাশি পণ্যের দাম ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

৪৭০টির বেশি পণ্যে শুল্ক ছাড়

নতুন শুল্কের তালিকায় চার শতাধিক পণ্যের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্য, কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ, কাঁচা ধাতু, শিল্পের বিভিন্ন উপাদান, ব্যবহৃত পোশাক, শিল্পকর্ম ও পুরোনো মূল্যবান সামগ্রী।

কফি ও কোকো বিনের মতো কিছু কৃষিপণ্যও শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে এসব পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসালে সাধারণ মানুষের জন্য খাবারের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া কর্ক, বীজ রোপণের উপকরণ এবং অর্ধপরিবাহী পরীক্ষা ও পরিদর্শনের যন্ত্রপাতির মতো বেশ কিছু শিল্পপণ্যও নতুন ছাড়ের তালিকায় রয়েছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যেও পুরোনো ছাড় বহাল

নতুন শুল্কনীতিতে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা কিছু পণ্যের জন্য আগের ছাড়ও রাখা হয়েছে। উত্তর আমেরিকার বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির নিয়ম মেনে আমদানি করা পণ্যগুলো এই সুবিধা পাচ্ছে।

এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে শুল্ক বাড়ানোর কঠোর অবস্থান ধরে রাখলেও অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দিতে চাইছে না।

জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে নতুন যুক্তি

ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্কের অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বিভিন্ন দেশের যথেষ্ট উদ্যোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তবে এই নীতির আওতায়ও অনেক পণ্যকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমনীতি, বাণিজ্য সুরক্ষা এবং দেশের ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির চাপ—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Trump extends 10% tariff baseline in broad use of trade powers | News |  thedailynewsonline.com

আরও শুল্ক আসার আশঙ্কা

নতুন শুল্ক আরোপকে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যনীতির শুরু হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে আরও কয়েকটি তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক বসানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রোবট, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও ওষুধ শিল্পের মতো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতও ভবিষ্যতে শুল্কের আওতায় আসতে পারে।

তবে এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বাড়ছে। এর মধ্যে নতুন করে আমদানি পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কেও ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্যিক উত্তেজনা কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি খুবই নাজুক। গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত শুরু হতে পারে।

বিশ্বের দুই বড় অর্থনীতির মধ্যে নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি-রপ্তানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট: সব মিলিয়ে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনীতি, ভোক্তার খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ধরে রাখাই এখন এই নীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে ৪৭০টির বেশি পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে আরও শুল্ক আসার আশঙ্কায় বিশ্ববাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ফের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে ৪৭০ পণ্যে ছাড়, বাণিজ্যনীতিতে বড় ভারসাম্যের চেষ্টা

০৭:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বড় ধরনের ছাড়ের বিষয় সামনে এসেছে। ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর শুক্রবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও চার শতাধিক পণ্যকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কঠোর শুল্কনীতি চালুর পাশাপাশি পণ্যের দাম ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

৪৭০টির বেশি পণ্যে শুল্ক ছাড়

নতুন শুল্কের তালিকায় চার শতাধিক পণ্যের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্য, কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ, কাঁচা ধাতু, শিল্পের বিভিন্ন উপাদান, ব্যবহৃত পোশাক, শিল্পকর্ম ও পুরোনো মূল্যবান সামগ্রী।

কফি ও কোকো বিনের মতো কিছু কৃষিপণ্যও শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে এসব পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসালে সাধারণ মানুষের জন্য খাবারের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া কর্ক, বীজ রোপণের উপকরণ এবং অর্ধপরিবাহী পরীক্ষা ও পরিদর্শনের যন্ত্রপাতির মতো বেশ কিছু শিল্পপণ্যও নতুন ছাড়ের তালিকায় রয়েছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যেও পুরোনো ছাড় বহাল

নতুন শুল্কনীতিতে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা কিছু পণ্যের জন্য আগের ছাড়ও রাখা হয়েছে। উত্তর আমেরিকার বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির নিয়ম মেনে আমদানি করা পণ্যগুলো এই সুবিধা পাচ্ছে।

এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে শুল্ক বাড়ানোর কঠোর অবস্থান ধরে রাখলেও অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দিতে চাইছে না।

জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে নতুন যুক্তি

ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্কের অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বিভিন্ন দেশের যথেষ্ট উদ্যোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তবে এই নীতির আওতায়ও অনেক পণ্যকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমনীতি, বাণিজ্য সুরক্ষা এবং দেশের ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির চাপ—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Trump extends 10% tariff baseline in broad use of trade powers | News |  thedailynewsonline.com

আরও শুল্ক আসার আশঙ্কা

নতুন শুল্ক আরোপকে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যনীতির শুরু হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে আরও কয়েকটি তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক বসানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রোবট, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও ওষুধ শিল্পের মতো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতও ভবিষ্যতে শুল্কের আওতায় আসতে পারে।

তবে এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বাড়ছে। এর মধ্যে নতুন করে আমদানি পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কেও ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্যিক উত্তেজনা কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি খুবই নাজুক। গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত শুরু হতে পারে।

বিশ্বের দুই বড় অর্থনীতির মধ্যে নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি-রপ্তানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট: সব মিলিয়ে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনীতি, ভোক্তার খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ধরে রাখাই এখন এই নীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে ৪৭০টির বেশি পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে আরও শুল্ক আসার আশঙ্কায় বিশ্ববাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।