নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (ইউএনআই): ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হবে। শুধু এই কারণে নয় যে তিনি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, যিনি সাংগঠনিক শক্তিকে বাস্তব রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে পারতেন; বরং দেশব্যাপী তরুণদের আন্দোলনের মুখে তাঁর পদত্যাগ এমন একটি বিরল ধাক্কা, যা ধারাবাহিক অভূতপূর্ব জনপ্রিয় নির্বাচনী জয়ে অভ্যস্ত একটি দলের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা।
৫৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায়কে কিছু বিশ্লেষক এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যে, বিজেপিকে তরুণদের প্রতি নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা নতুনভাবে সাজাতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতের সব নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৩৭ কোটি তরুণ-তরুণী।
২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলন, যা এনডিএ সরকারকে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারে বাধ্য করেছিল, তা ছাড়া এই সরকার প্রায় সব ধরনের আন্দোলনই দাবির কাছে নতি স্বীকার না করেই সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল তাঁর সফল সাংগঠনিক দক্ষতা, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং বিজেপি নেতৃত্বের কাছে উচ্চ মাত্রার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি। বিশেষ করে কঠিন বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে তিনি দলের জন্য নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচিত হতেন। তিনি কর্মীদের সংগঠিত করা, নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করা এবং কঠিন হলেও সম্ভাবনাময় এলাকায় রাজনৈতিকভাবে কার্যকর ফল এনে দেওয়ার সক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
ওডিশার এই নেতার রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর। প্রথমত, তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন, যা তাঁকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং দলের অভ্যন্তরে বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেয়।
দ্বিতীয়ত, তিনি কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ে দক্ষ কৌশলবিদ এবং ‘সমস্যা সমাধানকারী’ হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। বিশেষ করে ওডিশা এবং বিজেপির সম্প্রসারণের লক্ষ্য থাকা অন্যান্য রাজ্যে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
সবশেষে, তিনি একজন নীতিনির্ধারক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও পরিচিতি পান। পেট্রোলিয়াম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সফলভাবে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা তাঁকে একদিকে কার্যকর প্রশাসক, অন্যদিকে এনডিএ সরকারের জনসম্মুখের মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
জয়ন্ত রায় চৌধুরী 



















