পদ্মা নদীর ওপর প্রস্তাবিত ব্যারাজ ঘিরে নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভিত্তি যে সমীক্ষা, সেটি করা হয়েছিল ২০১২ সালের বাস্তবতা বিবেচনায়। এরপর কেটে গেছে ১৪ বছর। বদলে গেছে নদীর গতিপথ, পলি প্রবাহ, জলবায়ু, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক কূটনীতির বাস্তবতা। অথচ এত বড় প্রকল্পের অনুমোদনে সেই পুরোনো তথ্যই কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
২০১২ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় নদীর পানি, পলি, পরিবেশ, অর্থনীতি, সামাজিক প্রভাব ও প্রকৌশলগত বিষয় বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বাস্তবতায় সেই তথ্য নতুন করে যাচাই না করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানির হিসাবেই বড় প্রশ্ন
প্রকল্পের শুষ্ক মৌসুমের পানিপ্রবাহের হিসাব মূলত দুটি পুরোনো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটি হলো ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি কার্যকর থাকবে, অন্যটি হলো ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সালের পানিপ্রবাহের ধারা ভবিষ্যতেও একই থাকবে।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দুই ধারণাই নতুন করে যাচাই করা জরুরি। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। নতুন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি উজানে পানির ব্যবহারও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পদ্মায় শুষ্ক মৌসুমের পানি কতটা থাকবে, তা পুরোনো তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে বলা কঠিন।
পলি জমার ভয়ও কম নয়

ব্যারাজ নির্মাণের পর নদীর তলদেশে পলি জমার হিসাব নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। পুরোনো সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ৬০ বছরে নদীর তলদেশ প্রায় ৩ দশমিক ২৮ ফুট উঁচু হতে পারে। কিন্তু ফারাক্কার বাস্তব অভিজ্ঞতায় মাত্র ৫২ বছরে নদীর তলদেশ প্রায় ২০ ফুট উঁচু হয়েছে।
পদ্মার পাংশা এলাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি আসে। ব্যারাজের নিচ দিয়ে পলি সরানোর জন্য যে নিম্নগামী জলপথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পলি জমে এসব পথ দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলে সেগুলো পরিষ্কার ও কার্যকর রাখা কঠিন হতে পারে। অথচ কোন মৌসুমে কতটা খুলতে হবে কিংবা পলি ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা পুরোনো সমীক্ষায় স্পষ্ট নয়।
পাংশাই কি সত্যিই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান?
২০১২ সালে নদীর তৎকালীন অবস্থা বিবেচনায় পাংশাকে ব্যারাজের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে নকশাগত ত্রুটি, পলি জমা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় সেই নকশা বাতিল করা হয়।
এখন একই স্থান আবার সামনে এসেছে। কিন্তু এর মধ্যে পদ্মার গতিপথে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন চর জেগেছে, কোথাও তীর ভেঙেছে, আবার কোথাও মূল স্রোতের অবস্থান বদলেছে। তাই নতুন করে নদী সমীক্ষা ছাড়া পাংশাই সর্বোত্তম স্থান কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
একাধিক সম্ভাব্য স্থানকে পানি প্রবাহ, পলি, জমি অধিগ্রহণ, নৌ চলাচল, ব্যয় ও জলবায়ু সহনশীলতার দিক থেকে তুলনা করাও জরুরি।
ভাটির মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
পাংশা থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত আরও প্রায় ২০ থেকে ২৩ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। পাংশায় পানি আটকে দিলে এই অংশে পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আড়িয়াল খাঁ, কুমার ও গড়াই নদী অঞ্চলে।

শুষ্ক মৌসুমে গড়াইয়ে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ দীর্ঘদিন ধরেই সংকুচিত। এর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়েছে। ফলে লবণাক্ততা কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা ব্যারাজ উল্টো ভাটিতে পানির সংকট বাড়িয়ে দিলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
মাছ ও জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি কতটা?
ব্যারাজে মাছ চলাচলের জন্য দুটি মাছ চলাচলপথ রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শুধু পথ রাখলেই হবে না—কোন প্রজাতির মাছ কীভাবে চলাচল করবে, সেগুলো কতটা কার্যকর হবে এবং কীভাবে নজরদারি করা হবে, তার বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
পদ্মা-গঙ্গা অববাহিকা ইলিশসহ নানা জলজ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাস। একই সঙ্গে গাঙ্গেয় শুশুকের মতো বিপন্ন প্রাণীর অস্তিত্বও এই নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। বর্ষায় নদীর সঙ্গে প্লাবনভূমির স্বাভাবিক সংযোগ ব্যাহত হলে জলাভূমিনির্ভর বহু প্রাণীর প্রজনন ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে ভাটিতে পানি কমে গেলে সুন্দরবনেও লবণাক্ততার চাপ বাড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের হিসাব কোথায়?
পুরোনো সমীক্ষার জলবিদ্যাগত বিশ্লেষণের বড় অংশ ১৯৬৫ থেকে ২০০৮ সালের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর মধ্যে হিমালয়ের বরফ গলার হার, বর্ষার ধরন ও শুষ্ক মৌসুমের পানিপ্রবাহে পরিবর্তন এসেছে।
আগামী কয়েক দশকে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বর্ষাকালের সর্বোচ্চ পানিপ্রবাহ বাড়তে পারে। অথচ ২০৫০ বা ২১০০ সালের সম্ভাব্য পানিপ্রবাহ ধরে ব্যারাজের নকশা কতটা নিরাপদ থাকবে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব না থাকলে প্রকল্পটি ভবিষ্যতের জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, তা বলা কঠিন।
বাঁধের নিরাপত্তাও নতুন করে যাচাই দরকার

পদ্মার তলদেশ স্থির নয়। প্রতিবছর কোথাও পলি জমছে, কোথাও ভাঙন হচ্ছে। অথচ ব্যারাজের ভিত্তি ও কাঠামোগত নকশার সঙ্গে যুক্ত ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা করা হয়েছিল ২০১২ সালে।
নতুন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা ছাড়া ভিত্তির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। একই সঙ্গে বড় বন্যা, ভূমিকম্প এবং কাঠামোর সর্বোচ্চ সহনক্ষমতা আধুনিক মানদণ্ডে নতুন করে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ব্যারাজে বড় ধরনের বিপর্যয় হলে ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
নৌ চলাচলের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত
প্রকল্পে নৌযান চলাচলের জন্য জলপথের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যারাজ নির্মাণের পর নদীর গভীরতা, পানির উচ্চতা এবং নৌযান চলাচলে কী ধরনের পরিবর্তন হবে, তার বিস্তারিত মডেলিং প্রয়োজন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য পদ্মা নদীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই ব্যারাজের কারণে নৌপথের গভীরতা কমে গেলে বাণিজ্য ও যোগাযোগে কী প্রভাব পড়বে, তা আগে থেকেই হিসাব করা জরুরি।
ব্যারাজ চালানোর নিয়মও স্পষ্ট নয়
একটি ব্যারাজ নির্মাণের পর বহু দশক টিকে থাকতে পারে। কিন্তু এর সুফল না ক্ষতি—তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে কীভাবে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে তার ওপর।
বর্ষার শুরুতে পলি ব্যবস্থাপনা, বর্ষা শেষে পানি ধরে রাখা, শীতকালে পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পানিপ্রবাহ, চরম খরার সময় জরুরি ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত বন্যার সময় পানি ছাড়ার নিয়ম—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিচালন কাঠামো প্রয়োজন। কে সিদ্ধান্ত নেবে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে নেবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গেট কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও পরিষ্কার থাকা দরকার।
৫০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অর্থনৈতিক হিসাবও নতুন চাই
প্রকল্পের কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ও নৌ চলাচল থেকে সম্ভাব্য সুবিধার হিসাব রয়েছে। কিন্তু পলি জমার কারণে ভবিষ্যতের খনন ব্যয়, নদীভাঙনের ক্ষতি, বন্যায় ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশগত ক্ষতির মতো ব্যয় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি বলে প্রশ্ন রয়েছে।
২০১২ সালে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। ব্যয় যখন এতটা বেড়েছে, তখন সম্ভাব্য সুবিধার হিসাবও নতুন করে করা দরকার।

পুনর্বাসন পরিকল্পনাও পুরোনো
নদীর গতিপথ বদলের কারণে ২০১২ সালের জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখন বাস্তবতার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। পুরোনো সমীক্ষায় যে জায়গা পানির নিচে থাকার কথা ছিল, সেখানে নতুন বসতি গড়ে উঠতে পারে। আবার নদীভাঙনে আগের অনেক বসতি বিলীনও হয়ে থাকতে পারে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন সমীক্ষা ছাড়া পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে জমি নিয়ে বিরোধ ও সামাজিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
অর্থের উৎস নিয়েও অনিশ্চয়তা
এত বড় প্রকল্পের অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নিজস্ব অর্থায়ন, বিদেশি ঋণ নাকি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব—কোন পথে প্রকল্পের অর্থের ব্যবস্থা হবে, তা পরিষ্কার না হলে ঋণের শর্ত, সুদের হার এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় নির্ধারণ করা কঠিন।
ফলে অর্থের উৎস চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলে শুরুতেই বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে পানিকূটনীতির প্রশ্ন
গঙ্গার পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও আলোচনার বিষয়টিও প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার সময়ে ব্যারাজ নির্মাণ বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, নাকি আরও জটিল করবে—এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেরও বিশদ মূল্যায়ন দরকার।
পানি ব্যবস্থাপনা শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক বাস্তবতাও জড়িত।
শুধু ব্যারাজ নয়, দরকার পুরো অববাহিকার পরিকল্পনা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এখানেই। পদ্মা বা গঙ্গার পানি সংকট, পলি, লবণাক্ততা, জীববৈচিত্র্য ও নৌ চলাচলের সমস্যা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই শুধু একটি ব্যারাজ নির্মাণ করলেই এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে—এমন ধারণা যথেষ্ট নয়।

পুরো গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি, পলি, পরিবেশ, নৌ চলাচল ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশের দীর্ঘমেয়াদি বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে এই প্রকল্পের সামঞ্জস্যও নতুন করে যাচাই করা জরুরি।
পুরোনো তথ্য দিয়ে নতুন ভবিষ্যৎ নয়
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। পানি সংকট, লবণাক্ততা ও কৃষির সমস্যা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ অবশ্যই দরকার। কিন্তু ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বিশাল বিনিয়োগের প্রকল্পে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০১২ সালের সমীক্ষা তার সময়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের বাস্তবতায় নদীর গতিপথ, জলবায়ু, পলি, পরিবেশ, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাই নির্মাণ শুরুর আগে নতুন তথ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নকশা তৈরি করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের পানির প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরেকটি ফারাক্কার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
পদ্মা ব্যারাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, পরিবেশ, নৌপথ, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে ১৪টি বড় প্রশ্ন এবং পুরোনো সমীক্ষার ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















