জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামী অধিকার উদ্যাপনকে ঘিরে আয়োজিত বড় সমাবেশের কাছে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে
শনিবার রাতে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সমকামী অধিকার উদ্যাপনের বড় একটি সমাবেশকে ঘিরে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি ছিল।
রাত ১০টার কিছু আগে একটি গাড়ি পার্কের ভেতরে ঢুকে কয়েকজনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহত ১৬ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। আতঙ্ক ও মানসিক ধাক্কার কারণে আরও প্রায় ৩০ জনকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর উৎসবস্থলে থাকা মানুষদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্কে। আহতদের উদ্ধারে ছুটে আসেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

পরিত্যক্ত গাড়ি, সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা গাড়িটি পরে উৎসবস্থল থেকে কয়েক শ মিটার দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়িটি ছোট আকারের যাত্রীবাহী বা ক্রীড়া-ধাঁচের যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছেন। তার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সন্দেহভাজনকে ধরতে বার্লিনের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে। আকাশপথে তল্লাশির জন্য তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরাযুক্ত হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
আগে থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা
সমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

তবে গাড়িচাপার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। টিয়ারগার্টেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি। ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায় বিপুলসংখ্যক জরুরি সেবার যান।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ঘটনার পর জার্মানিতে জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সহিংসতার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্টের সঙ্গে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনারও ঘটনার নিন্দা করেছেন। সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহনকারী একটি সমাবেশে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

লাখো মানুষের উৎসব বিষাদে পরিণত
শনিবারের সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। জার্মানিতে সমকামী অধিকার উদ্যাপনের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে প্রতিবছরই এই অনুষ্ঠান বিপুল মানুষের সমাগম ঘটায়।
ব্রান্ডেনবুর্গ ফটকের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার পরও উৎসবের আমেজ ছিল চারদিকে। কিন্তু রাতের গাড়িচাপার ঘটনায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোক আর আতঙ্কে।
ঘটনার পর বার্লিনে জননিরাপত্তা, বড় সমাবেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং উগ্রপন্থা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















