ইংল্যান্ডে পোষ্য রাখার সুযোগ আছে—এমন ভাড়া বাসার খোঁজ এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন ভাড়া আইন কার্যকর হওয়ার পর ভাড়াটিয়াদের বাসা খোঁজার ধরনেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোষ্যবান্ধব বাসার খোঁজ কমেছে ৫৪ শতাংশ। জুন মাসেও এই ধরনের বাসার খোঁজ কমেছে ৫২ শতাংশ। আইন পরিবর্তনের সময় যত এগিয়ে এসেছে, ভাড়াটিয়াদের অনুসন্ধানে এই পতন ততই স্পষ্ট হয়েছে।
আইন বদলের পর বদলেছে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার সমীকরণ
নতুন নিয়মের ফলে ইংল্যান্ডে বাড়িওয়ালারা শুধু ‘পোষ্য রাখা যাবে না’—এমন সাধারণ নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভর করে ভাড়াটিয়াদের আবেদন ঠেকাতে পারছেন না। ফলে পোষ্য নিয়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে আলোচনার ধরনও বদলে যাচ্ছে।
কিছু ভাড়াটিয়া চুক্তি সই করার পর বাড়িতে পোষ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। আবার কারও কারও পোষ্যের বিষয়টি বাড়ি পরিদর্শনের সময় প্রকাশ পেয়েছে।
ভাড়াবাড়ি ব্যবস্থাপনা খাতের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভাড়াটিয়ারা এখন বুঝতে পারছেন যে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। ফলে অনেকেই বাসা নেওয়ার প্রক্রিয়ার পরের দিকে পোষ্য রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

সব ক্ষেত্রেই পোষ্য রাখার অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়
তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে বাড়িওয়ালাকে সব পরিস্থিতিতে পোষ্য রাখার অনুমতি দিতেই হবে। নির্দিষ্ট কিছু কারণে পোষ্য রাখার আবেদন প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ এখনো রয়েছে।
যেমন, একই বাড়ির অন্য কোনো ভাড়াটিয়ার পোষ্যের কারণে গুরুতর অ্যালার্জি থাকলে, বাসাটি বড় আকারের পোষ্য বা একাধিক পোষ্যের জন্য উপযুক্ত না হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট পোষ্য আইনবিরোধী হলে বাড়িওয়ালা আপত্তি জানাতে পারেন।
এ ছাড়া কোনো বাড়িওয়ালা যদি নিজে মূল মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে সেই বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকেন এবং মূল মালিক পোষ্য রাখার অনুমতি না দেন, সেক্ষেত্রেও পোষ্য রাখার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
পোষ্য এখনো ভাড়াটিয়াদের চাহিদার শীর্ষে
পোষ্য রাখার সুযোগ আছে—এমন বাসার খোঁজ কমলেও ভাড়াটিয়াদের কাছে এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ একটি চাহিদা। ভাড়া বাসা খোঁজার সময় সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করা সুবিধাগুলোর মধ্যে পোষ্য রাখার সুযোগ শীর্ষে রয়েছে।
এর পরেই রয়েছে বাগান, গাড়ি রাখার জায়গা, আসবাবপত্র এবং ভাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন বিল অন্তর্ভুক্ত থাকার সুবিধা।

অর্থাৎ অনুসন্ধানের সংখ্যা কমলেও পোষ্যবান্ধব বাসার গুরুত্ব ভাড়াটিয়াদের কাছে এখনো কমেনি।
‘পোষ্য শুধু প্রাণী নয়, পরিবারের অংশ’
আইন পরিবর্তনের আগে লন্ডনের ৪১ বছর বয়সী ইভ উইলিয়ামসনকে নিজের পোষ্য কুকুর ‘খান’-কে ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। না হলে তাকে বাসা থেকে উচ্ছেদের মুখে পড়তে হতো।
ইভের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ওই বাসায় কুকুর রাখার সুযোগ থাকলেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। অসুস্থ মায়ের পূর্ণকালীন পরিচর্যা করার সময় খান তাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছিল। তাই পোষ্যকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
তার মতে, জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও পোষ্য নিঃশর্ত ভালোবাসা দেয়। তাই অনেক মানুষের কাছেই পোষ্য কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং পরিবারেরই একজন সদস্য।
নতুন আইন সেই বাস্তবতাকে ভাড়াবাড়ির ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে পোষ্যবান্ধব বাসার খোঁজ কমে যাওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখাচ্ছে, আইন বদলের সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের আচরণও দ্রুত বদলাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















