ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫টিতে। শনিবার এই স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সারনাথ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়, ভারতের ৪৫তম ঐতিহাসিক স্থাপনা
ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫টিতে। শনিবার এই স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে সারনাথকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ চক্রে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির জন্য ভারতের সরকারি মনোনয়ন ছিল এই বৌদ্ধ ঐতিহাসিক স্থানটি।
বুদ্ধের প্রথম ধর্মদেশনার স্মৃতিবিজড়িত স্থান

উত্তর প্রদেশের বারাণসীর কাছে অবস্থিত সারনাথ বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধ এখানে এসে তাঁর প্রথম শিষ্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রথম ধর্মদেশনা দেন।
বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই ধর্মদেশনা ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ নামে পরিচিত। বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে সারনাথের বিশেষ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
ধ্বংসের পর দীর্ঘদিন ছিল বিস্মৃতিতে
সারনাথের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে ধ্বংস ও বিস্মৃতির অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দ্বাদশ শতকের দিকে এই প্রাচীন স্থানের গুরুত্ব কমতে শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে এটি ব্যাপকভাবে ধ্বংসের শিকার হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় সারনাথ অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। অষ্টাদশ শতকে স্থানটি আবারও আবিষ্কৃত হয়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এর প্রাচীন স্থাপত্য ও সভ্যতার নানা নিদর্শন সামনে আসে।
১৬ শতকের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে

সারনাথে প্রাক-মৌর্য যুগ থেকে শুরু করে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন প্রায় ১৬ শতকজুড়ে বিস্তৃত একটি ধারাবাহিক বসতির ইতিহাস তুলে ধরে।
ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সারনাথে ব্যাপক খননকাজ পরিচালনা করেছে। এসব গবেষণার মাধ্যমে প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্য, বসতি ও সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্যে নতুন সংযোজন
বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সারনাথের অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরেছে। এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পাহাড়পুর, নেপালের লুম্বিনী, ভারতের বোধগয়া, সাঁচি, নালন্দা ও অজন্তা এবং শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুর উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া বর্তমান পাকিস্তানের তক্ষশীলা ও তখত-ই-বাহিও এই বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
সারনাথের নতুন এই স্বীকৃতি শুধু ভারতের প্রাচীন ইতিহাস ও স্থাপত্যের আন্তর্জাতিক মর্যাদাই বাড়াবে না, বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহও আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















