পদ্মা নদীতে চলন্ত ফেরি থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। শনিবার রাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও প্রথমে তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। পরে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরের কাছে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ওই নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও ফেরি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে একটি ফেরি ছেড়ে যায়। ফেরিটি পদ্মা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে বোরকা পরিহিত এক নারী হঠাৎ নিচতলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ফেরির মাস্টার দ্রুত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ এবং নৌপুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
ব্যাগের সূত্রে পরিচয় শনাক্ত
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, ফেরির মাস্টার ও এক খাবার বিক্রেতার সহায়তায় নদী থেকে ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগের ভেতরে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে।
উদ্ধার করলেন জেলেরা
শনিবার রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরের কাছে মাছ ধরার সময় চার জেলে ওই নারীকে কচুরিপানার সঙ্গে ভেসে থাকতে দেখেন। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সারোয়ার হোসেন জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর খবর পেয়ে কোতোয়ালি নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
পরিবারের কাছে হস্তান্তর
কোতোয়ালি নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম মোছা. লায়জু। তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ ঝাউচর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
তবে তিনি কী কারণে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















