সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি উদ্বেগজনক দাবি—সানস্ক্রিন নাকি ক্যানসারের কারণ। তবে এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহারের গুরুত্বই বেশি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য মানুষের মধ্যে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের ভয়, সানস্ক্রিন সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারণা মানুষকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছে ভুল তথ্য
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, সানস্ক্রিনে থাকা উপাদান ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব দাবির অনেকগুলোতেই বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের যথাযথ ব্যাখ্যা নেই।
ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিষয়ক ভুল ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নিয়মিত বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রচারণা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আসল ঝুঁকি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়া ত্বকের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সানস্ক্রিন এই সুরক্ষার একটি উপায়। পাশাপাশি ছাতা ব্যবহার, শরীর ঢেকে রাখা, টুপি পরা এবং দিনের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলাও ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
সানস্ক্রিন নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অযাচাইকৃত পোস্টের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ভুল তথ্য অনেক সময় মানুষের আচরণে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি সানস্ক্রিন সম্পর্কে ভিত্তিহীন ভয় ছড়ানো বন্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়াই হতে পারে ত্বক সুস্থ রাখার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















