ভারতের গুজরাটে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে গত দুই দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করার পর উদ্ধার অভিযান শেষ করে এখন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি দুই জেলায়
প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া ও পানিতে ডুবে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নবসারি ও ভালসাদ জেলায়। এই দুই জেলাতেই ২৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার করা মরদেহ শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
সাত হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া সাত হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। নবসারি ও সুরাট জেলায় সবচেয়ে বেশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন্যার ঝুঁকিতে থাকা ৪২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১৮টি দল এবং রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ৩২টি দল কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতা করেছেন।
ফসল-ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু
বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে। কৃষিজমির ফসল, ঘরবাড়ি, গৃহস্থালির সামগ্রী এবং বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যাচাই শুরু হয়েছে।
ভালসাদ জেলায় ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের কয়েক দিনের আয় হারানোর ক্ষতিপূরণ, নষ্ট হয়ে যাওয়া গৃহস্থালির সামগ্রী এবং বন্যায় মারা যাওয়া গবাদিপশুর জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার থেকে এসব সহায়তা বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রোগের ঝুঁকি ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জলাবদ্ধ এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে দুর্গত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি রোগজীবাণু ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বিস্তার ঠেকাতে কীটনাশক ছিটানোর কাজও চলছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, বন্যার ক্ষত কাটিয়ে দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।
সাত জেলায় জারি সতর্কতা
বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও গুজরাটের কয়েকটি জেলায় নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বানাসকাঁঠা, পাটন, সুরেন্দ্রনগর, মেহসানা, খেদা, আরাবল্লি ও সাবরকাঁঠা জেলায় শনিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রোববারও এসব জেলার কয়েকটিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতা বহাল থাকার কথা রয়েছে। ফলে পানি কমলেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে নজর রাখছে প্রশাসন।
গুজরাটে সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন উদ্ধারপর্ব শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শেষ করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















