পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে চলমান ‘অপারেশন আল-আজম’-এ এখন পর্যন্ত ১৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এই অভিযানে একাধিক আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তান টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলুচিস্তানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করে এবং তাদের পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে থাকে।
অভিযান শুরুর পটভূমি
গত বুধবার কোয়েটা থেকে করাচিগামী একটি যাত্রীবাহী কোচে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার পর ‘অপারেশন আল-আজম’ শুরু করা হয়। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেলুচিস্তানে অভিযান জোরদার করে।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, মাসতুং ও সুরাব জেলায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ১০ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয় এবং দুই আত্মঘাতী হামলাকারী ও তাদের একজন সহযোগীকে আটক করা হয়।
আগের অভিযান ও নিরাপত্তা সংকট
জুলাইয়ের শুরুতে জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পাম্পিং স্টেশনের পুলিশ পোস্টে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করে। ওই হামলায় সশস্ত্র হামলাকারীরা ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করে।
বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস)-এর জুনের শুরুতে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দুই মাস পরিস্থিতির উন্নতির পর মে মাসে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর প্রধান কারণ ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে বেলুচিস্তানে ৭১টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে এপ্রিল মাসে এ সংখ্যা ছিল ৩৪। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে হামলার সংখ্যা ১০৯ শতাংশ বেড়েছে।

অপহরণও বেড়েছে
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মে মাসে পাকিস্তানজুড়ে ৫৪টি অপহরণের ঘটনার মধ্যে ৫২টিই ঘটেছে বেলুচিস্তানে। এতে প্রদেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সরকারের কঠোর অবস্থান
গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, বেলুচিস্তানে একের পর এক বড় হামলার পর দেশের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে যৌথভাবে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতির যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকার নিরাপত্তা সমন্বয় আরও জোরদার, শান্তি কৌশল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পুরো প্রদেশে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে বেলুচিস্তান কাউন্টার টেররিজম ফোর্স ও প্রাদেশিক পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অনুমোদিত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















