পাকিস্তানের পাঞ্জাবে চেনাব নদীর বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মাঝারি মাত্রার বন্যা নেমে এসে এখন নিম্নমাত্রায় পৌঁছেছে। তবে পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) সতর্ক করেছে, ২৯ জুলাই থেকে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজান, ইসলামাবাদ, উত্তর পাঞ্জাব, কাশ্মীর, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তানে নতুন করে বৃষ্টির দফা শুরু হতে পারে।
পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলেও বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
চেনাবে কমেছে পানি, অন্য নদীগুলোতেও নজরদারি
পিডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, চেনাব নদীর মারালা, খানকি, কাদিরাবাদ ও ত্রিম্মু ব্যারাজ এলাকায় এখন নিম্নমাত্রার বন্যা বিরাজ করছে। রোববার সকাল ৬টার হিসাবে মারালায় পানিপ্রবাহ ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার কিউসেক, খানকিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার, কাদিরাবাদে ১ লাখ ৩৫ হাজার এবং ত্রিম্মুতে ১ লাখ ৮৪ হাজার কিউসেক।
সিন্ধু নদীর কালাবাগ, চাশমা ও তাউনসা এলাকাতেও নিম্নমাত্রার বন্যা অব্যাহত রয়েছে। এসব স্থানে পানিপ্রবাহ যথাক্রমে ৩ লাখ ৩৪ হাজার, ৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ৩ লাখ ১৩ হাজার কিউসেক রেকর্ড করা হয়েছে।
রাভি নদীর বাল্লোকি ও সিধনাই হেডওয়ার্কস এলাকায়ও নিম্নমাত্রার বন্যা রয়েছে, যদিও শাহদারা অংশে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে শতদ্রু ও ঝিলম নদীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিছু এলাকায় এখনও ঝুঁকি
পিডিএমএ জানিয়েছে, নারোয়ালের বাসান্তার নালায় মাঝারি মাত্রার বন্যা এবং ওয়াজিরাবাদের ফালকো নালায় উচ্চমাত্রার বন্যা অব্যাহত রয়েছে। ফালকো নালায় পানিপ্রবাহ প্রায় ৫ হাজার কিউসেক।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পিডিএমএর মহাপরিচালক। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণশিবিরে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ সব ধরনের মৌলিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে
গত ২৪ ঘণ্টায় নূরপুর থালে ১১৫ মিলিমিটার, গুজরানওয়ালায় ১০৭, গুজরাতে ৯৪, নারোয়ালে ৬৮ এবং মান্ডি বাহাউদ্দিনে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া লাহোরে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত পাঁচ দিনে শহরটিতে মোট ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডি, ফয়সালাবাদ, মুলতান, আটক, মুরি ও বাহাওয়ালপুরসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পিডিএমএর নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জেলা জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটি নিম্নাঞ্চলে নদী ও খালে আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে।
এ পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিজনিত ঘটনায় পাঞ্জাবে ২২ জনের মৃত্যু এবং ১৮৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার একদিনেই বৃষ্টিসংক্রান্ত দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া টানা ভারী বর্ষণে পাঞ্জাবের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পানির নিচে চলে গেছে।
২৯ জুলাই থেকে নতুন বৃষ্টির সম্ভাবনা
পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ২৮ জুলাই পর্যন্ত বন্যা সৃষ্টির মতো ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। তবে ২৯ জুলাই থেকে প্রধান নদীগুলোর উজান, ইসলামাবাদ, উত্তর পাঞ্জাব, কাশ্মীর, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তানে নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিন্ধু নদীর কালাবাগ, চাশমা, তাউনসা ও গুদ্দু অংশে নিম্নমাত্রার বন্যা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে পাঞ্জাব, সিন্ধ, বেলুচিস্তান ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
করাচির জন্যও মেঘলা ও আর্দ্র আবহাওয়া, হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং শহরের উপকণ্ঠে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















