০৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বের সংকটের কেন্দ্রে কি এক ব্যক্তির রাজনীতি? স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে? যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ঘিরে নতুন উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে কমছে সহিংস অপরাধ, স্বস্তি ফিরছে শহরগুলোতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটের সামনে গাড়িচাপায় ৮২ বছরের নারী নিহত, বিচারের দাবিতে পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩ সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা

বিশ্বের সংকটের কেন্দ্রে কি এক ব্যক্তির রাজনীতি?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির খবর অনুসরণ করা মানুষের জন্য গত কয়েক বছর যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। ইউক্রেন, গাজা, লেবানন, ইসরায়েল কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চল—সংঘাতের মানচিত্র বদলালেও মূল প্রশ্নগুলো প্রায় অপরিবর্তিত। প্রতিদিন নতুন প্রাণহানি, নতুন হুমকি, নতুন কূটনৈতিক নাটক। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের গভীরে তাকালে দেখা যায়, এসব সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের গল্প নয়; এগুলো এমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিফলন, যারা শক্তির প্রদর্শনকে প্রায়ই বাস্তবসম্মত কৌশলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

এই যুদ্ধগুলোর সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক শুধু প্রাণহানি নয়। যেসব রাষ্ট্র সরাসরি জড়িত, তাদের কয়েকটির হাতে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। ফলে প্রতিটি সামরিক ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা এমন এক ঝুঁকি তৈরি করে, যেখানে কোনো নেতা নিজের পরাজয় স্বীকার না করে বিপজ্জনক মাত্রায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারেন। সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, আর সেটিই বৈশ্বিক নিরাপত্তার সবচেয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মনোযোগও একধরনের ক্লান্তির মধ্যে পড়ে। একই ধরনের সংঘাত, একই ধরনের বিবৃতি এবং প্রায় একই ধরনের সামরিক বিশ্লেষণ মানুষের আগ্রহকে নিস্তেজ করে দেয়। ফলে কখনও কখনও দৃষ্টি অন্য কোনো বিষয়ে সরে যায়—যেমন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা কিম জং উনের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। কিন্তু সেই পথ ধরেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পরিচিত চরিত্র আবার সামনে চলে আসে।

সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির বহু বিতর্কের কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি যেন বারবার ফিরে আসে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সংকট থেকে শুরু করে ইরানকে ঘিরে মার্কিন অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর রাজনৈতিক পদ্ধতির মধ্যে একটি স্পষ্ট মিল দেখা যায়। প্রথমে অত্যন্ত কঠোর ভাষা, ভয়াবহ পরিণতির হুমকি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ; তারপর হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা ও আপাত বন্ধুত্বের ভাষা। কিন্তু এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর দীর্ঘমেয়াদি কোনো কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে না।

উত্তর কোরিয়ার ঘটনাই তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর ভাষণ ও মন্তব্যে ছিল নজিরবিহীন কঠোরতা। পরে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই ভাষা একেবারে পাল্টে যায়। দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে চলেছে।

American Support for Israel Is a Political Religion - New Lines Magazine

কিন্তু সেই আশাবাদ খুব দ্রুত মিলিয়ে যায়। কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আর কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি, আলোচনার ধারাবাহিকতাও টেকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কমে যায়, অথচ উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা থেমে থাকেনি। বরং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ইরানের ক্ষেত্রেও কি একই ধারা অনুসরণ করা হবে? রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি, কঠোর ভাষার ব্যবহার, তারপর আপসের ইঙ্গিত এবং শেষ পর্যন্ত মূল সমস্যাকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া—এ ধরনের কৌশল যদি আবারও দেখা যায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে? কোনো জটিল নিরাপত্তা সংকট কি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা নাটকীয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব?

বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ধারাবাহিকতা, আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক প্রচার বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব সাময়িক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। পারমাণবিক অস্ত্র, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো প্রশ্নে প্রতীকী সাফল্যের চেয়ে বাস্তব অগ্রগতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বিশ্ববাসীর কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে। কিম জং উনের কিশোরী কন্যাকে ঘিরে উত্তরসূরি হওয়ার নানা জল্পনা থাকলেও সেসবের কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই। দেশের ক্ষমতার কাঠামো এখনও সম্পূর্ণভাবে বর্তমান নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে, এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমানের চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। বিশ্ব সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায়ই ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব উঠে আসে, কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিত্ব নয়, ফলাফল দিয়েই নেতৃত্বকে বিচার করে। কঠোর ভাষণ, নাটকীয় বৈঠক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প সাময়িক শিরোনাম তৈরি করতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক কূটনীতি, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার রাজনৈতিক সক্ষমতা। বিশ্বের সামনে আজ সেই পরীক্ষাই সবচেয়ে বড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের সংকটের কেন্দ্রে কি এক ব্যক্তির রাজনীতি?

বিশ্বের সংকটের কেন্দ্রে কি এক ব্যক্তির রাজনীতি?

০৮:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক রাজনীতির খবর অনুসরণ করা মানুষের জন্য গত কয়েক বছর যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। ইউক্রেন, গাজা, লেবানন, ইসরায়েল কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চল—সংঘাতের মানচিত্র বদলালেও মূল প্রশ্নগুলো প্রায় অপরিবর্তিত। প্রতিদিন নতুন প্রাণহানি, নতুন হুমকি, নতুন কূটনৈতিক নাটক। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের গভীরে তাকালে দেখা যায়, এসব সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের গল্প নয়; এগুলো এমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিফলন, যারা শক্তির প্রদর্শনকে প্রায়ই বাস্তবসম্মত কৌশলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

এই যুদ্ধগুলোর সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক শুধু প্রাণহানি নয়। যেসব রাষ্ট্র সরাসরি জড়িত, তাদের কয়েকটির হাতে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। ফলে প্রতিটি সামরিক ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা এমন এক ঝুঁকি তৈরি করে, যেখানে কোনো নেতা নিজের পরাজয় স্বীকার না করে বিপজ্জনক মাত্রায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারেন। সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, আর সেটিই বৈশ্বিক নিরাপত্তার সবচেয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মনোযোগও একধরনের ক্লান্তির মধ্যে পড়ে। একই ধরনের সংঘাত, একই ধরনের বিবৃতি এবং প্রায় একই ধরনের সামরিক বিশ্লেষণ মানুষের আগ্রহকে নিস্তেজ করে দেয়। ফলে কখনও কখনও দৃষ্টি অন্য কোনো বিষয়ে সরে যায়—যেমন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা কিম জং উনের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। কিন্তু সেই পথ ধরেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পরিচিত চরিত্র আবার সামনে চলে আসে।

সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির বহু বিতর্কের কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি যেন বারবার ফিরে আসে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সংকট থেকে শুরু করে ইরানকে ঘিরে মার্কিন অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর রাজনৈতিক পদ্ধতির মধ্যে একটি স্পষ্ট মিল দেখা যায়। প্রথমে অত্যন্ত কঠোর ভাষা, ভয়াবহ পরিণতির হুমকি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ; তারপর হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা ও আপাত বন্ধুত্বের ভাষা। কিন্তু এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর দীর্ঘমেয়াদি কোনো কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে না।

উত্তর কোরিয়ার ঘটনাই তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর ভাষণ ও মন্তব্যে ছিল নজিরবিহীন কঠোরতা। পরে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই ভাষা একেবারে পাল্টে যায়। দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে চলেছে।

American Support for Israel Is a Political Religion - New Lines Magazine

কিন্তু সেই আশাবাদ খুব দ্রুত মিলিয়ে যায়। কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আর কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি, আলোচনার ধারাবাহিকতাও টেকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কমে যায়, অথচ উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা থেমে থাকেনি। বরং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ইরানের ক্ষেত্রেও কি একই ধারা অনুসরণ করা হবে? রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি, কঠোর ভাষার ব্যবহার, তারপর আপসের ইঙ্গিত এবং শেষ পর্যন্ত মূল সমস্যাকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া—এ ধরনের কৌশল যদি আবারও দেখা যায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে? কোনো জটিল নিরাপত্তা সংকট কি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা নাটকীয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব?

বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ধারাবাহিকতা, আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক প্রচার বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব সাময়িক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। পারমাণবিক অস্ত্র, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো প্রশ্নে প্রতীকী সাফল্যের চেয়ে বাস্তব অগ্রগতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বিশ্ববাসীর কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে। কিম জং উনের কিশোরী কন্যাকে ঘিরে উত্তরসূরি হওয়ার নানা জল্পনা থাকলেও সেসবের কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই। দেশের ক্ষমতার কাঠামো এখনও সম্পূর্ণভাবে বর্তমান নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে, এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমানের চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। বিশ্ব সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায়ই ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব উঠে আসে, কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিত্ব নয়, ফলাফল দিয়েই নেতৃত্বকে বিচার করে। কঠোর ভাষণ, নাটকীয় বৈঠক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প সাময়িক শিরোনাম তৈরি করতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক কূটনীতি, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার রাজনৈতিক সক্ষমতা। বিশ্বের সামনে আজ সেই পরীক্ষাই সবচেয়ে বড়।