০৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা সৌদি আরবকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণে ছাড়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশ্ন—‘আমাদের নয় কেন?’ ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্বপ্ন, অবসরে ঘর সাজাতে লাখ লাখ টাকা খরচ চোখের সামনে যা দেখছেন, সব সত্য নয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাড়ছে ভয়ংকর প্রতারণা ফিলিপাইনে ‘চীনা গুপ্তচর’ বিতর্কের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা ও মানবপাচারের জাল জলবায়ু পরিবর্তনে কফি বিলুপ্তির শঙ্কা, হারিয়ে যাওয়া এক উদ্ভিদেই আশার আলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে বাংলাদেশ, সুদের হারভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসার ভাবনা গ্যাস সংকট আরও তীব্র, ঢাকার লাখো চুলায় আগুন জ্বলছে না ডলারের নিখুঁত জাল নোট তৈরির ‘শিল্পী’কে ধরতে কলম্বিয়ায় অভিযান স্মার্টফোনের যুগেও আফ্রিকায় অপ্রতিরোধ্য রেডিও, তরুণদের কাছেও জনপ্রিয়

পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ইসরায়েলের অভিযানে ৭০ জনের বেশি আটক

পশ্চিম তীরে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবারের সহিংসতায় দুই ইসরায়েলি সেনা ও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর শনিবার রাত থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। (

নাবলুসের আশপাশে ব্যাপক অভিযান

উত্তর পশ্চিম তীরের তেল গ্রামকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের সংঘর্ষের পর সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, পশ্চিম তীরজুড়ে তিন শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। অভিযানে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, শুধু তেল গ্রাম থেকেই ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পুরো পশ্চিম তীরে আটক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৮০ জনের বেশি। তারা এই ধরপাকড়কে সমষ্টিগত শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতির অংশ হিসেবে দেখছে। (

হাসপাতালে অভিযানে ক্ষোভ

নাবলুসের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী সেখানে ঢুকে রোগী ও কর্মীদের ভয় দেখায়। আহত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে আটক করার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগেও তল্লাশি চালানো হয়। (

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের অভিযান কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। অভিযানের সময় নারী ও শিশুরাও সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

ছয়জন নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা

শুক্রবার তেল এলাকায় সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এলাকায় প্রবেশের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।

এই ঘটনার পর পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ধারাবাহিক আটকের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

Israel detains over 70 suspects following deadly violence in the West Bank

গাজাতেও প্রাণহানি

পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজাতেও শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বিমান হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া গাজার আরও কয়েকটি এলাকায় হামলা ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অঞ্চলটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। পশ্চিম তীরে নতুন করে ব্যাপক ধরপাকড় এবং গাজায় প্রাণহানি—দুই ঘটনাই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী, ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। সর্বশেষ প্রাণহানির পর ব্যাপক সামরিক অভিযান ও আটকের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মধ্যে পশ্চিম তীর ও গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে ৭০ জনের বেশি আটক, তেল এলাকায় সংঘর্ষে নিহত ৬ জন এবং গাজায় নতুন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বইয়ে পাঁচ ভুবনের যাত্রা, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ—পাঠকের জন্য নতুন পাঁচ ঠিকানা

পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ইসরায়েলের অভিযানে ৭০ জনের বেশি আটক

০৭:২৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পশ্চিম তীরে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবারের সহিংসতায় দুই ইসরায়েলি সেনা ও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর শনিবার রাত থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। (

নাবলুসের আশপাশে ব্যাপক অভিযান

উত্তর পশ্চিম তীরের তেল গ্রামকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের সংঘর্ষের পর সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, পশ্চিম তীরজুড়ে তিন শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। অভিযানে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, শুধু তেল গ্রাম থেকেই ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পুরো পশ্চিম তীরে আটক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৮০ জনের বেশি। তারা এই ধরপাকড়কে সমষ্টিগত শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতির অংশ হিসেবে দেখছে। (

হাসপাতালে অভিযানে ক্ষোভ

নাবলুসের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী সেখানে ঢুকে রোগী ও কর্মীদের ভয় দেখায়। আহত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে আটক করার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগেও তল্লাশি চালানো হয়। (

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের অভিযান কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। অভিযানের সময় নারী ও শিশুরাও সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

ছয়জন নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা

শুক্রবার তেল এলাকায় সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এলাকায় প্রবেশের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।

এই ঘটনার পর পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ধারাবাহিক আটকের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

Israel detains over 70 suspects following deadly violence in the West Bank

গাজাতেও প্রাণহানি

পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজাতেও শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বিমান হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া গাজার আরও কয়েকটি এলাকায় হামলা ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অঞ্চলটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। পশ্চিম তীরে নতুন করে ব্যাপক ধরপাকড় এবং গাজায় প্রাণহানি—দুই ঘটনাই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী, ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। সর্বশেষ প্রাণহানির পর ব্যাপক সামরিক অভিযান ও আটকের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মধ্যে পশ্চিম তীর ও গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে ৭০ জনের বেশি আটক, তেল এলাকায় সংঘর্ষে নিহত ৬ জন এবং গাজায় নতুন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন।