আফ্রিকায় স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে রেডিও এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। শহর থেকে গ্রাম—অনেক মানুষ নিয়মিত রেডিও শুনছেন। প্রযুক্তির বিস্তারের মধ্যেও রেডিওর এই জনপ্রিয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কেন এখনো রেডিওর প্রতি এত টান
আফ্রিকাজুড়ে রেডিওর ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর। গত শতকের বিশের দশকে বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রচার কেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে রেডিও কখনো সরকারি প্রচারের মাধ্যম হয়েছে, কখনো রাজনৈতিক আন্দোলনের হাতিয়ার হয়েছে। আবার অনেক দেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সঙ্গে বেসরকারি রেডিওরও বিস্তার ঘটেছে।
বর্তমানে রেডিওর সবচেয়ে বড় শক্তি এর সহজলভ্যতা। কম খরচে শোনা যায়, আর অনেক সাধারণ মুঠোফোনেই এফএম রেডিও সুবিধা থাকে। ফলে আলাদা করে ইন্টারনেটের তথ্য কিনতে হয় না। আফ্রিকার অনেক মানুষের জন্য এটিই রেডিওকে এখনো সবচেয়ে সহজ সংবাদমাধ্যম হিসেবে ধরে রেখেছে।
তরুণরাও ছাড়ছেন না রেডিও
সারাক্ষণ রিপোর্টের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রেডিওর শ্রোতা শুধু বয়স্ক মানুষ নন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আফ্রিকানদের একটি বড় অংশ নিয়মিত রেডিও থেকে খবর নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের কাছে সংবাদ পাওয়ার বড় মাধ্যম হয়ে উঠলেও রেডিও এখনো খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের হাতে স্মার্টফোন থাকলেও পুরোনো এই মাধ্যমটি তাদের দৈনন্দিন তথ্য পাওয়ার অভ্যাস থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
শহরের ব্যস্ত জীবনেও রেডিও সঙ্গী
আফ্রিকার বড় শহরগুলোতে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘ সময় গাড়িতে আটকে থাকা মানুষ রেডিওতে খবর, আলোচনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনছেন। অনেকেই সরাসরি অনুষ্ঠানে ফোন করে মতামত জানান।
এভাবে রেডিও শুধু সংবাদ শোনার মাধ্যম নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের একটি প্রাণবন্ত জায়গা হিসেবেও টিকে আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিওকে আরও শক্তিশালী করছে
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ইন্টারনেটের বিস্তার অনেক ক্ষেত্রে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমানোর বদলে এর উপস্থাপকদের আরও পরিচিত করে তুলছে। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকা হয়ে উঠছেন।
অনেক উপস্থাপক রেডিওতে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল অনুসারী তৈরি করছেন। এর ফলে বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজ থেকেও আয় করার সুযোগ বাড়ছে।
অর্থাৎ রেডিও ও ইন্টারনেট এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পাশাপাশি একে অন্যকে শক্তিশালীও করছে।
কেনিয়ায় রেডিওর জায়গা নিয়েই সংকট
আফ্রিকার রেডিও জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি কেনিয়া। রাজধানী নাইরোবিতে এত বেশি এফএম কেন্দ্র চালু হয়েছে যে নতুন কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটিতে দুই শতাধিক এফএম রেডিও কেন্দ্র চালু রয়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। ফলে সেখানে রেডিওর জনপ্রিয়তা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সম্প্রচারের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় কেনিয়া নতুন প্রযুক্তির দিকে তাকাচ্ছে। ডিজিটাল অডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে একই তরঙ্গের মধ্যে বেশি সংখ্যক রেডিও কেন্দ্র চালানোর সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
রেডিওর ভবিষ্যৎ কি ডিজিটাল
আফ্রিকায় রেডিওর ভবিষ্যৎ যে শুধু পুরোনো পদ্ধতিতে আটকে থাকবে, তা নয়। বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করেই এর নতুন পথ তৈরি হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে রেডিওর মেলবন্ধন দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি এলেই পুরোনো মাধ্যম হারিয়ে যায় না। মানুষের প্রয়োজন ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী পুরোনো মাধ্যমও নতুন রূপ নিতে পারে।
আফ্রিকার বাস্তবতায় রেডিও এখনো সস্তা, সহজ ও ব্যাপকভাবে পৌঁছানো সংবাদমাধ্যম। তাই স্মার্টফোনের যুগেও এর আবেদন শেষ হয়ে যাচ্ছে না; বরং প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেডিও নিজের নতুন জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে।
আফ্রিকায় স্মার্টফোনের বিস্তার সত্ত্বেও রেডিও এখনো কোটি মানুষের সংবাদ পাওয়ার সহজ মাধ্যম। তরুণদের মধ্যেও এর জনপ্রিয়তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় ভবিষ্যতে রেডিওর নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আফ্রিকায় স্মার্টফোনের যুগেও রেডিওর জনপ্রিয়তা অটুট; তরুণদের কাছেও সংবাদ পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















