০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা ১৮০ বছর পর আসামের পাহাড়ে বিরল ফুলের উদ্ভিদ, টিকে আছে মাত্র ৪০টি আসামে বন্যার পানি নামতেই বাড়ছে রোগের শঙ্কা, নিরাপদ পানি ও মশা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান আসামের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের দাবি আগস্টে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আসামে ১০ বছরে ৬,২১১ শিশুশ্রমিক শনাক্ত, পুনর্বাসন হয়েছে ৬,১২৩ জনের আজাদ কাশ্মীর নির্বাচনে বড় জয় নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনের, ১৩ আসনের ৯টিই দখল সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থায় হুতিদের হামলার দাবি, বাড়ছে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ চীনের চিপ প্রতিযোগিতার ভয়ে এশিয়ার প্রযুক্তি বাজারে বড় ধস

ইনস্টাগ্রামে তরুণদের উত্থানে মোদির রাজনৈতিক দাপটে নতুন চ্যালেঞ্জ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব এবার নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই থামেনি, বরং দেশটির রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে মোদি ও তাঁর দল বিজেপির প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটি আন্দোলন সেই রাজনৈতিক আধিপত্যের ভিন্ন একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে প্রধানত তরুণদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

আন্দোলনের চাপের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে মোদি সরকারের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তরুণদের সরব অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে ব্যঙ্গ করে গান, পোস্টার ও দেয়াললিখন নজর কেড়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে বড় ক্ষোভের বিস্তার

চিকিৎসাশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে তরুণদের আরও গভীর উদ্বেগ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চাকরির সংকট, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সেবা খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অনেকের কাছে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের একটি উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তরুণদের আন্দোলন বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

ইনস্টাগ্রামে তরুণদের অভাবনীয় প্রভাব

এই আন্দোলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনটি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে বিপুলসংখ্যক অনুসারী তৈরি করে।

এটি বিজেপির দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এত বছর ধরে অনলাইনে শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তরুণদের একটি সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করায় রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরন যে বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

তরুণদের কাছে এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। তারা নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি কথা বলা, ভুল স্বীকার করা এবং নিজেদের সমস্যার বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।

মোদির জনপ্রিয়তার সামনে নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি নিজেকে শক্তিশালী ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

কিন্তু সাম্প্রতিক আন্দোলন দেখিয়েছে, নতুন প্রজন্মের একটি অংশ এখন আগের মতো রাজনৈতিক আনুগত্যে আটকে থাকতে চাইছে না। ধর্ম, জাতপাত কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে চাকরি, শিক্ষা, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও জবাবদিহির মতো বিষয় তরুণ ভোটারদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিবর্তন আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির জন্য নতুন পরীক্ষা তৈরি করতে পারে।

উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটে নজর

আগামী বছর ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে।

তরুণদের সাম্প্রতিক অসন্তোষ নির্বাচনী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে আন্দোলনের পর বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে। তরুণদের এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনটি ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নামবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্র বদলে যাচ্ছে

ভারতের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নতুন কিছু নয়। তবে তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এর ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। একসময় রাজনৈতিক আলোচনায় এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মের প্রভাব বেশি থাকলেও এখন ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

ইনস্টাগ্রামে প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে স্বাভাবিক, সরাসরি এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি কার্যকর হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি নেতাদের মানুষের ক্ষোভ ও প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নেতৃত্বের নতুন পরীক্ষায় মোদি

আন্দোলনের চাপের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের রাজনীতিতে এখন শুধু শক্তিশালী নেতৃত্ব দেখানোই যথেষ্ট নয়, মানুষের কথা শোনা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তরুণ ভোটারদের সংখ্যা ভারতের জনসংখ্যায় বড়। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই প্রজন্ম যদি নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করে, তাহলে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্টের বিশ্লেষণে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ আপাতদৃষ্টিতে একটি নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে হলেও এর ভেতরে ভারতের তরুণদের বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতিফলন রয়েছে। ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাই শুধু মোদি সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক চাপ নয়, ভবিষ্যতের ভারতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

মোদির সামনে এখন বড় পরীক্ষা—তরুণদের ক্ষোভকে শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে দেখা হবে, নাকি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করা হবে।

মোদির রাজনৈতিক প্রভাবের সামনে তরুণদের নতুন চ্যালেঞ্জ, ইনস্টাগ্রামভিত্তিক এই আন্দোলন আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Cockroach Janta Party (CJP) supporters celebrate after the resignation of Education Minister Dharmendra Pradhan, in New Delhi

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

ইনস্টাগ্রামে তরুণদের উত্থানে মোদির রাজনৈতিক দাপটে নতুন চ্যালেঞ্জ

১১:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব এবার নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই থামেনি, বরং দেশটির রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে মোদি ও তাঁর দল বিজেপির প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটি আন্দোলন সেই রাজনৈতিক আধিপত্যের ভিন্ন একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে প্রধানত তরুণদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

আন্দোলনের চাপের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে মোদি সরকারের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তরুণদের সরব অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে ব্যঙ্গ করে গান, পোস্টার ও দেয়াললিখন নজর কেড়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে বড় ক্ষোভের বিস্তার

চিকিৎসাশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে তরুণদের আরও গভীর উদ্বেগ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চাকরির সংকট, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সেবা খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অনেকের কাছে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের একটি উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তরুণদের আন্দোলন বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

ইনস্টাগ্রামে তরুণদের অভাবনীয় প্রভাব

এই আন্দোলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনটি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে বিপুলসংখ্যক অনুসারী তৈরি করে।

এটি বিজেপির দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এত বছর ধরে অনলাইনে শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তরুণদের একটি সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করায় রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরন যে বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

তরুণদের কাছে এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। তারা নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি কথা বলা, ভুল স্বীকার করা এবং নিজেদের সমস্যার বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।

মোদির জনপ্রিয়তার সামনে নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি নিজেকে শক্তিশালী ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

কিন্তু সাম্প্রতিক আন্দোলন দেখিয়েছে, নতুন প্রজন্মের একটি অংশ এখন আগের মতো রাজনৈতিক আনুগত্যে আটকে থাকতে চাইছে না। ধর্ম, জাতপাত কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে চাকরি, শিক্ষা, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও জবাবদিহির মতো বিষয় তরুণ ভোটারদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিবর্তন আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির জন্য নতুন পরীক্ষা তৈরি করতে পারে।

উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটে নজর

আগামী বছর ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে।

তরুণদের সাম্প্রতিক অসন্তোষ নির্বাচনী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে আন্দোলনের পর বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে। তরুণদের এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনটি ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নামবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্র বদলে যাচ্ছে

ভারতের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নতুন কিছু নয়। তবে তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এর ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। একসময় রাজনৈতিক আলোচনায় এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মের প্রভাব বেশি থাকলেও এখন ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Supporters of India's Cockroach Janta Party (CJP) celebrate after India's Education Minister Dharmendra Pradhan resigned, in New Delhi

ইনস্টাগ্রামে প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে স্বাভাবিক, সরাসরি এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি কার্যকর হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি নেতাদের মানুষের ক্ষোভ ও প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নেতৃত্বের নতুন পরীক্ষায় মোদি

আন্দোলনের চাপের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের রাজনীতিতে এখন শুধু শক্তিশালী নেতৃত্ব দেখানোই যথেষ্ট নয়, মানুষের কথা শোনা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তরুণ ভোটারদের সংখ্যা ভারতের জনসংখ্যায় বড়। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই প্রজন্ম যদি নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করে, তাহলে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্টের বিশ্লেষণে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ আপাতদৃষ্টিতে একটি নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে হলেও এর ভেতরে ভারতের তরুণদের বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতিফলন রয়েছে। ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাই শুধু মোদি সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক চাপ নয়, ভবিষ্যতের ভারতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

মোদির সামনে এখন বড় পরীক্ষা—তরুণদের ক্ষোভকে শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে দেখা হবে, নাকি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করা হবে।

মোদির রাজনৈতিক প্রভাবের সামনে তরুণদের নতুন চ্যালেঞ্জ, ইনস্টাগ্রামভিত্তিক এই আন্দোলন আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Cockroach Janta Party (CJP) supporters celebrate after the resignation of Education Minister Dharmendra Pradhan, in New Delhi