ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে সাময়িকভাবে সংঘাত হিমায়িত করা এবং আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে শনিবার তিনি বলেন, যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনা শুরু করা গেলে একটি শান্তিচুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।
সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরে রাশিয়া ও কাজাখস্তানের আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তোকায়েভ এই প্রস্তাব দেন। তিনি ইউক্রেন সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সংঘাত থামিয়ে আলোচনার প্রস্তাব
তোকায়েভের মতে, বর্তমান যুদ্ধকে সাময়িকভাবে থামিয়ে আবার আলোচনা শুরু করা হলে দীর্ঘদিনের শান্তির দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি এর আগে হওয়া ইস্তাম্বুলের আলোচনার কাঠামোকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর কথাও বলেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইস্তাম্বুলে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এসব প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

তোকায়েভ বলেন, বড় শক্তিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যার মধ্যে রাশিয়াও থাকবে, নিশ্চিত করা গেলে শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, এই যুদ্ধের অবশ্যই অবসান হওয়া প্রয়োজন।
পুতিনের অবস্থানও স্পষ্ট
তোকায়েভের বক্তব্যের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থানের কারণে শুধু সংঘাত হিমায়িত করে রাখা সম্ভব নয়।
পুতিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিলে সামরিক অভিযান থামানো সম্ভব। তবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
রাশিয়া এর আগে জানিয়েছে, শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল নিয়ে মস্কোর দাবিকে মেনে নিতে হবে এবং সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। ইউক্রেন এসব দাবির বিরোধিতা করে আসছে।

শান্তি আলোচনায় নতুন বার্তা
কাজাখ প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মধ্য এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অবস্থানকে সামনে এনেছে। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে কাজাখস্তান একই সঙ্গে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছে।
তবে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর করতে হলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মূল বিরোধের বিষয়গুলোতে সমঝোতা প্রয়োজন হবে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, দখল করা অঞ্চল এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থান—এসব প্রশ্নের সমাধান ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















