পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর পর টোল আদায়ে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইটিসির মাধ্যমে টোল আদায় ১০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, যা দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ও নগদবিহীন সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিজিটাল টোল ব্যবস্থায় নতুন সাফল্য
সোমবার সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশজুড়ে টোল আদায়কে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং নগদবিহীন করার লক্ষ্যেই ইটিসি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত ম্যানুয়াল টোল সংগ্রহের পরিবর্তে একীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।
রোববার পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা। একই সময়ে দীর্ঘপথের বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং ব্যক্তিগত গাড়িসহ মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত ইটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন কোনো ধরনের থামা ছাড়াই ইলেকট্রনিকভাবে টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতু পার হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের যাতায়াতে সুবিধা নিশ্চিত করতে ইটিসিভিত্তিক টোল আদায় কার্যক্রম বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।
তার ভাষ্য, ১০ কোটির বেশি টোল আদায় এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং নগদবিহীন করার পথে বড় অর্জন। এ সাফল্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রযুক্তি অংশীদার, পরিবহন মালিক সংগঠন এবং সেতু ব্যবহারকারীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
যেভাবে ব্যবহার করবেন ইটিসি
ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে টোল পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে ট্যাপ, বিকাশ, নগদ ও উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাস্ট ব্যাংকের ট্যাপ, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেও টোল দেওয়া সম্ভব।
নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ‘ডি-টোল’ সেবায় ‘মোটর ভেহিকল রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে গিয়ে গাড়ির নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিতে হবে। এরপর ‘ডি-টোল টপ-আপ’ সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ রিচার্জ করা যাবে।
প্রথমবার ব্যবহারকারীদের মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ অথবা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাই করাতে হবে। একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে একই ট্যাগ ব্যবহার করেই ভবিষ্যতে ইটিসি লেন দিয়ে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পার হওয়া যাবে।
যানজট কমছে, বাড়ছে পরিবেশবান্ধব সুবিধা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠান, যেমন এমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অনেক বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ইতোমধ্যে ইটিসিতে নিবন্ধন করেছেন এবং নিয়মিত এই সেবা ব্যবহার করছেন।
ইটিসি লেন ব্যবহারকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলমান অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ সম্পন্ন হয়। এতে অপেক্ষার সময় শূন্যে নেমে এসেছে, বিশেষ করে ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে যানজট কমেছে। পাশাপাশি গাড়ি থামানো-চালু করার প্রয়োজন না থাকায় জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণও কমছে।
দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, পদ্মা সেতুর ইটিসি ব্যবস্থা দেশের মহাসড়ক ও সেতু ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। পদ্মা সেতুর টোল আদায় পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও নগদবিহীন ইটিসি সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সব পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুত ইটিসিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা সেতুর ইটিসি ব্যবস্থায় ১০ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় ও এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন দেশের ডিজিটাল টোল ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















