০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, স্বাস্থ্যগত কারণ জানালেন জং সুং-হো ২৪ ঘণ্টা একটানা উড়বে চীনের নতুন বেসামরিক ড্রোন, ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি চীনে মিলল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো অ্যাম্বার, বয়স প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ বছর আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায় দ্রুত সহায়তা, নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে চীনের নতুন বার্তা ইলন মাস্কের দাতব্য ঘোষণা, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিপুল সম্পদ দানের ইঙ্গিত বিহারে বিক্ষোভে না থেকেও গ্রেপ্তার! জেলে পাঠানো ৮৫ শিক্ষার্থীকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন আস্থার সংকটে বিনিয়োগ ঃঝুঁকিতে কর্মসংস্থান অ্যাম্বুলেন্সেই রক্ত দেওয়ার নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে, প্রাণ বাঁচাতে বড় পরিবর্তনের আশা ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ৫১২ রোগী জুলাই শহীদ গেজেট পেতে জালিয়াতি করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ৫ বছর কারাদণ্ড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা, ওপেনএআইকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের নিশ্চয়তা দিতে পারে এনভিডিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অবকাঠামো তৈরিতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওপেনএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ওপেনএআইকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে এনভিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় চিপসহ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পগুলোর একটি হবে। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং সক্ষমতা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি এগোচ্ছে।

ওহাইওতে তৈরি হবে বিশাল তথ্যকেন্দ্র

দক্ষিণ ওহাইওতে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ কয়েক মিলিয়ন বাড়িতে সরবরাহ করা বিদ্যুতের সমান। পুরো স্থাপনা তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০২৮ সালে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সফটব্যাংকের মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসবি এনার্জি। ওহাইওর একটি সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার জমিতে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জায়গাটি কলম্বাস শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে।

Nvidia in talks with OpenAI to guarantee $250 billion financing for data  centre: Report - The Hindu

ওপেনএআইকে ঋণ পেতে সহায়তা করবে এনভিডিয়া

ওপেনএআই এখনো লাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহে তার ঋণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনভিডিয়ার আর্থিক নিশ্চয়তা ঋণদাতাদের আস্থা বাড়াতে পারে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন তুলনামূলক সুবিধাজনক শর্তে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আলোচ্য কাঠামোয় এনভিডিয়া বিভিন্ন অর্থায়ন ব্যবস্থার পেছনে নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা ভাবছে। এতে তথ্যকেন্দ্রের ভাড়া এবং নির্মাণ ব্যয়ের ঋণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত শর্ত এখনো ঠিক হয়নি। ফলে আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে গড়াবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এনভিডিয়া এরই মধ্যে ওপেনএআইতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি ওপেনএআইয়ের জন্য চিপ কেনার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। এই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিদ্যুৎ ও চিপের সংকট

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত শক্তিশালী মডেল তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু এসব মডেল পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ চিপ ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এ কারণে সরকার সমর্থিত জমি, বিদ্যুৎ এবং অর্থায়নের নিশ্চয়তা পাওয়া বড় প্রকল্পগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ওপেনএআই এতদিন মূলত অন্য প্রতিষ্ঠানের মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং অবকাঠামো ভাড়া নিয়ে কাজ করেছে। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিজেদের ব্যবহারের অবকাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।

ওপেনএআই ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্বাভাস প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এর আগে এই হিসাব ছিল প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান চুক্তির সঙ্গেও যুক্ত প্রকল্প

ওহাইওর এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমঝোতাও জড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে কম শুল্কের বিনিময়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাপান ওহাইওতে ফেডারেল জমিতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে।

এসবি এনার্জি ওই বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনা করবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি ফি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। জাপানের বিনিয়োগের অর্থ উঠে না আসা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিক্রির আয় দুই দেশ ভাগ করে নেবে। এরপর আয়ের ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাবে বলে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রয়েছে।

সরকারি জমি ব্যবহারের কারণে স্থানীয় অনুমোদন, জমি নিয়ে বিরোধ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা তুলনামূলকভাবে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

NVIDIA in Talks to Back OpenAI Data Centre worth $250 Billion Financing -  ITP.net

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের ধরনও বদলাচ্ছে। শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট বা দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রযুক্তি কোম্পানির অবকাঠামো নির্মাণে ঋণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

গুগলও অ্যানথ্রপিকের কিছু তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পে এমন আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের চাহিদা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

এনভিডিয়ার জন্যও বড় ব্যবসায়িক বাজি

এই সম্ভাব্য চুক্তি শুধু ওপেনএআইয়ের জন্য নয়, এনভিডিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের বিপুল চাহিদা নিশ্চিত করতে বড় গ্রাহকদের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করছে।

তবে এ ধরনের অর্থায়ন নিয়ে ঝুঁকিও রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে কিংবা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হলে বড় অঙ্কের পারস্পরিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এনভিডিয়াও জানিয়েছে, তথ্যকেন্দ্র অর্থায়নের এমন ব্যবস্থায় স্বল্পমেয়াদে নগদ প্রবাহ কমতে এবং গ্রাহকের ঋণঝুঁকি বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ওহাইওর এই প্রকল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অর্থ, বিদ্যুৎ, চিপ ও সরকারি সহায়তার নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভবিষ্যতের বৃহৎ প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রকল্প কীভাবে অর্থায়িত হবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, স্বাস্থ্যগত কারণ জানালেন জং সুং-হো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা, ওপেনএআইকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের নিশ্চয়তা দিতে পারে এনভিডিয়া

০৪:১৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অবকাঠামো তৈরিতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওপেনএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ওপেনএআইকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে এনভিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় চিপসহ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পগুলোর একটি হবে। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং সক্ষমতা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি এগোচ্ছে।

ওহাইওতে তৈরি হবে বিশাল তথ্যকেন্দ্র

দক্ষিণ ওহাইওতে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ কয়েক মিলিয়ন বাড়িতে সরবরাহ করা বিদ্যুতের সমান। পুরো স্থাপনা তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০২৮ সালে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সফটব্যাংকের মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসবি এনার্জি। ওহাইওর একটি সাবেক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার জমিতে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জায়গাটি কলম্বাস শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে।

Nvidia in talks with OpenAI to guarantee $250 billion financing for data  centre: Report - The Hindu

ওপেনএআইকে ঋণ পেতে সহায়তা করবে এনভিডিয়া

ওপেনএআই এখনো লাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহে তার ঋণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনভিডিয়ার আর্থিক নিশ্চয়তা ঋণদাতাদের আস্থা বাড়াতে পারে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন তুলনামূলক সুবিধাজনক শর্তে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আলোচ্য কাঠামোয় এনভিডিয়া বিভিন্ন অর্থায়ন ব্যবস্থার পেছনে নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা ভাবছে। এতে তথ্যকেন্দ্রের ভাড়া এবং নির্মাণ ব্যয়ের ঋণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত শর্ত এখনো ঠিক হয়নি। ফলে আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে গড়াবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এনভিডিয়া এরই মধ্যে ওপেনএআইতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি ওপেনএআইয়ের জন্য চিপ কেনার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। এই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিদ্যুৎ ও চিপের সংকট

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত শক্তিশালী মডেল তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু এসব মডেল পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ চিপ ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এ কারণে সরকার সমর্থিত জমি, বিদ্যুৎ এবং অর্থায়নের নিশ্চয়তা পাওয়া বড় প্রকল্পগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ওপেনএআই এতদিন মূলত অন্য প্রতিষ্ঠানের মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং অবকাঠামো ভাড়া নিয়ে কাজ করেছে। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিজেদের ব্যবহারের অবকাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।

ওপেনএআই ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্বাভাস প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এর আগে এই হিসাব ছিল প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান চুক্তির সঙ্গেও যুক্ত প্রকল্প

ওহাইওর এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমঝোতাও জড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে কম শুল্কের বিনিময়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাপান ওহাইওতে ফেডারেল জমিতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে।

এসবি এনার্জি ওই বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনা করবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি ফি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। জাপানের বিনিয়োগের অর্থ উঠে না আসা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিক্রির আয় দুই দেশ ভাগ করে নেবে। এরপর আয়ের ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাবে বলে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রয়েছে।

সরকারি জমি ব্যবহারের কারণে স্থানীয় অনুমোদন, জমি নিয়ে বিরোধ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা তুলনামূলকভাবে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

NVIDIA in Talks to Back OpenAI Data Centre worth $250 Billion Financing -  ITP.net

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের ধরনও বদলাচ্ছে। শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট বা দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রযুক্তি কোম্পানির অবকাঠামো নির্মাণে ঋণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

গুগলও অ্যানথ্রপিকের কিছু তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পে এমন আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের চাহিদা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

এনভিডিয়ার জন্যও বড় ব্যবসায়িক বাজি

এই সম্ভাব্য চুক্তি শুধু ওপেনএআইয়ের জন্য নয়, এনভিডিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের বিপুল চাহিদা নিশ্চিত করতে বড় গ্রাহকদের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করছে।

তবে এ ধরনের অর্থায়ন নিয়ে ঝুঁকিও রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে কিংবা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হলে বড় অঙ্কের পারস্পরিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এনভিডিয়াও জানিয়েছে, তথ্যকেন্দ্র অর্থায়নের এমন ব্যবস্থায় স্বল্পমেয়াদে নগদ প্রবাহ কমতে এবং গ্রাহকের ঋণঝুঁকি বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ওহাইওর এই প্রকল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অর্থ, বিদ্যুৎ, চিপ ও সরকারি সহায়তার নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভবিষ্যতের বৃহৎ প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রকল্প কীভাবে অর্থায়িত হবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।