জুলাই আন্দোলনের শহীদ হিসেবে সরকারি গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে জালিয়াতি বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
প্রতারণা করে গেজেটে নাম তোলার সুযোগ নেই
ইশরাক হোসেন বলেন, কেউ প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করে জুলাই আন্দোলনের শহীদ হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গেজেটে নাম তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রকৃত শহীদদের শনাক্ত করে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান থাকবে। একই সঙ্গে যেসব শহীদ এখনো সরকারি স্বীকৃতি পাননি, তাদের দ্রুত গেজেটভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদের কবর সংরক্ষণে নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ
মতুয়াইল কবরস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন জানান, সেখানে জুলাই আন্দোলনের ১৭ জন শহীদকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের কবর এখনো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। এ জন্য স্থায়ী বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য আগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহীদদের কবরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়।
এখন এসব কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও পরিচর্যার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাতিল হয়েছে ১২ জনের গেজেট
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের তালিকা যাচাইয়ের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১২টি গেজেট বাতিল করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় নিহত হননি। বরং তাদের কয়েকজন তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ কারণে তাদের শহীদ হিসেবে দেওয়া গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
আগের সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ
ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তার মতে, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা হলে দুই বছর পরও শহীদের সংখ্যা নির্ধারণ নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি হতো না।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত হলেও যারা এখনো তালিকাভুক্ত বা গেজেটভুক্ত হননি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া দাবিদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি, কবর সংরক্ষণ এবং সরকারি তালিকা নির্ভুল করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের গেজেটভুক্তি নিয়ে প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সরকারের—ভুয়া কাগজে নাম তুলতে গেলে হতে পারে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















