০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ব্যাংকে অবরুদ্ধ পাটওয়ারী ও সারজিস সন্তানহীন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর, কমছে শিশুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা চাকরি পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি আপনার পোশাক-পরিচ্ছদও কি গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রথম বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাই মূল লক্ষ্য

গত কয়েক দিনে ইরান ও ওমানের কর্মকর্তারা বৈঠক করে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন। আলোচনার লক্ষ্য আপাতত যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। বরং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করে উত্তেজনা কমানো এবং সমুদ্রপথে আরোপিত বাধা তুলে নেওয়ার পথ তৈরি করা।

আলোচনায় প্রণালির প্রায় ২২ মাইল প্রশস্ত জলপথের কোন অংশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, সেটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে জাহাজগুলো তার নিয়ন্ত্রিত জলসীমা দিয়েও চলাচল করুক। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওমানের উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে।

কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতভেদ

ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বেশ কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে কি না, সেটিও রয়েছে।

তবে মতবিরোধের পাশাপাশি আলোচনায় অগ্রগতির খবর নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। ওমানের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে—এমন ভাষা ব্যবহার করতে তারা সতর্ক রয়েছে। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনীতির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চালানো হামলা স্থগিত করেন। এর একটি কারণ ছিল চলমান আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা। এরপরই ওমান তেহরানে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুদ্ধের চাপে দুই দেশই

সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশের ওপরই চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক মজুত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং বন্দর অবরোধের কারণে অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাময়িক হলেও একটি সমঝোতা হলে নৌ অবরোধ শিথিল করা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আগের শান্তি উদ্যোগ বাস্তবায়নের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মধ্যস্থতাকারীদের আশা, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা কমবে এবং বৃহত্তর শান্তি আলোচনার পথও সহজ হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। সাময়িক সমঝোতা হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক শান্তিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব

০৮:০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রথম বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাই মূল লক্ষ্য

গত কয়েক দিনে ইরান ও ওমানের কর্মকর্তারা বৈঠক করে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন। আলোচনার লক্ষ্য আপাতত যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। বরং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করে উত্তেজনা কমানো এবং সমুদ্রপথে আরোপিত বাধা তুলে নেওয়ার পথ তৈরি করা।

আলোচনায় প্রণালির প্রায় ২২ মাইল প্রশস্ত জলপথের কোন অংশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, সেটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে জাহাজগুলো তার নিয়ন্ত্রিত জলসীমা দিয়েও চলাচল করুক। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওমানের উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে।

কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতভেদ

ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বেশ কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে কি না, সেটিও রয়েছে।

তবে মতবিরোধের পাশাপাশি আলোচনায় অগ্রগতির খবর নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। ওমানের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে—এমন ভাষা ব্যবহার করতে তারা সতর্ক রয়েছে। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনীতির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চালানো হামলা স্থগিত করেন। এর একটি কারণ ছিল চলমান আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা। এরপরই ওমান তেহরানে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুদ্ধের চাপে দুই দেশই

সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশের ওপরই চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক মজুত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং বন্দর অবরোধের কারণে অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাময়িক হলেও একটি সমঝোতা হলে নৌ অবরোধ শিথিল করা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আগের শান্তি উদ্যোগ বাস্তবায়নের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মধ্যস্থতাকারীদের আশা, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা কমবে এবং বৃহত্তর শান্তি আলোচনার পথও সহজ হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। সাময়িক সমঝোতা হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক শান্তিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।