ইলন মাস্ক কি শেষ পর্যন্ত তাঁর বিপুল সম্পদের বড় অংশ মানবকল্যাণে দান করতে যাচ্ছেন? সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান এই ধনকুবের। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ভবিষ্যতে অর্থের গুরুত্ব কমে যাবে—এমন বক্তব্যের পর তাঁর কাছে নিজের সম্পদ দানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হলে মাস্ক জানান, তিনি এ ধরনের কিছু করার পরিকল্পনা করছেন
অর্থের প্রয়োজন থাকবে না, মাস্কের এমন ভবিষ্যদ্বাণী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি প্রযুক্তি ও রোবটিকসের দ্রুত উন্নতির কারণে আগামী দিনে পণ্য ও সেবার উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে কমে যাবে বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন ইলন মাস্ক। তাঁর ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর এক ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এমনকি অবসর জীবনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করে যাওয়ার প্রয়োজনও ভবিষ্যতে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য ও সেবার দাম এত কমে যেতে পারে যে সরকার নাগরিকদের উচ্চমাত্রার সার্বজনীন আয় দিলেও তা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না—এমন ধারণাও তুলে ধরেছেন মাস্ক।
২০৩৬ সালের মধ্যে সম্পদ দানের আহ্বান
মাস্কের এই ভবিষ্যৎ ভাবনার পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ দারন আসেমোগ্লু তাঁকে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি ২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের গুরুত্ব সত্যিই কমে যায়, তাহলে মাস্ক তাঁর বর্তমান বিপুল সম্পদ ওই সময়ের মধ্যে দাতব্য কাজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন।
আসেমোগ্লুর মতে, এমন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির শক্তির ওপর মাস্কের বিশ্বাসের বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে অতি ধনী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটিও কিছুটা কমতে পারে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাস্ক লেখেন, তিনি আসলে এ ধরনের কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ঠিক কত অর্থ, কোন খাতে এবং কীভাবে দান করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ওয়ারেন বাফেটের পথ অনুসরণের সম্ভাবনা
মাস্ক যদি সত্যিই নিজের সম্পদের বড় অংশ দান করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁর এই উদ্যোগের সঙ্গে ওয়ারেন বাফেটের দাতব্য কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া যাবে।
বাফেট ২০১০ সালে বিল গেটসের সঙ্গে মিলে বিশ্বের অতি ধনী ব্যক্তিদের নিজেদের সম্পদের বড় অংশ মানবকল্যাণে দান করতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন। গত ১৬ বছরে নিজের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বিপুলসংখ্যক শেয়ার বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বাফেট জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা অবশিষ্ট শেয়ারও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পরিবারের দাতব্য ফাউন্ডেশনগুলোর কাছে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ইচ্ছা, সন্তানরা পরবর্তী সময়ে সেই সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন।

মাস্কের সম্পদ কত
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, সোমবার দিনের লেনদেন শেষে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত মাসে তাঁর সম্পদের মূল্য সাময়িকভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছিল।
তবে স্পেসএক্সের মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর সেই সম্পদের হিসাবও কমেছে। মাস্ক যদি এর মধ্য থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থও দাতব্য কাজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে বিশ্বের অন্যতম বড় দাতব্য দাতার তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হতে পারে।
দানের প্রতিশ্রুতি কি বদলাবে বিতর্ক
প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এমন একটি ভবিষ্যৎ আসবে, যেখানে অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে—মাস্কের এই ধারণা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চাকরি, সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে।
তাই বিপুল সম্পদ দানের ঘোষণা শুধু দাতব্য উদ্যোগ হিসেবেই নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের প্রতি আস্থার প্রমাণ হিসেবেও দেখা হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, মাস্ক শেষ পর্যন্ত কতটা সম্পদ দান করবেন এবং সেই অর্থ কোন কোন মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হবে।
ইলন মাস্কের সম্ভাব্য দাতব্য প্রতিশ্রুতি, বিপুল সম্পদ দানের ইঙ্গিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইলন মাস্ক ২০৩৬ সালের মধ্যে বিপুল সম্পদ দানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ও অর্থের গুরুত্ব নিয়ে তাঁর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















