০৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা চাকরি পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি আপনার পোশাক-পরিচ্ছদও কি গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত আরও একজন ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও ২০২৮ সালে জেডি ভ্যান্সই কেন এগিয়ে, রুবিওর সম্ভাবনা কতটা যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে ইরান: শোক, ক্ষোভ আর টিকে থাকার লড়াই

বিহারে বিক্ষোভে না থেকেও গ্রেপ্তার! জেলে পাঠানো ৮৫ শিক্ষার্থীকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

বিহারে সাম্প্রতিক বন্ধ ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, তাদের স্বজনদের কেউ কেউ বিক্ষোভে অংশই নেননি। এরপরও পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

শনিবারের বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সোমবার ভোররাতে পাটনার বেউর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে শুরুতে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি।

বই কিনতে গিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা প্রিন্স কুমার জানান, তার ছোট ভাই পীযূষ কুমার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পুরোনো বই কিনতে গান্ধী ময়দানের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে বিক্ষোভ চললেও তিনি তাতে অংশ নেননি বলে পরিবারের দাবি।

প্রিন্সের অভিযোগ, পুলিশ সেখান থেকেই পীযূষকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাত তিনটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটিও পরিবারকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পেট্রল পাম্পে যাওয়া স্বজনও আটক

পাটনার কঙ্করবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের অভিযোগ, তার স্বজন মোহাম্মদ শারিক কুরেশিও বিক্ষোভে অংশ নিতে যাননি। তিনি পেট্রল পাম্পে গিয়েছিলেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলে গান্ধী ময়দান পুলিশ তাকে আটক করে বলে পরিবারের দাবি।

রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাই পুরো দিন পুলিশ তাদের জানায়নি শারিককে কোন থানায় রাখা হয়েছে। পরদিন কঙ্করবাগ থানায় ফোন করে তাকে গান্ধী ময়দান থানায় খোঁজ নিতে বলা হয়। পরে আদালত চত্বরে গিয়ে তিনি পুলিশভ্যানে শারিককে দেখতে পান।

Protesters clash with police in Bihar amid call for statewide bandh, Tej  Pratap detained in Patna | Patna News - The Indian Express

১৪৪ জনের মধ্যে ৮৫ শিক্ষার্থী কারাগারে

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করছে না এবং গ্রেপ্তারদের মৌলিক অধিকারও যথাযথভাবে মানা হয়নি।

আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে বিচারকের সামনে হাজির করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর আরও অভিযোগ, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। বিক্ষোভে সম্পৃক্ত না থাকা শিক্ষার্থীদেরও আটকের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে কয়েকজন নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪৪ জনের মধ্যে ৮৫ জনকে বেউর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবারগুলোর মূল দাবি, যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

বিহারের এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ যথাযথভাবে পার্থক্য করেছে কি না। গ্রেপ্তারদের অধিকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

বিহারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটাতে স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিহারে বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৪৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভে ছিলেনই না।

জনপ্রিয় সংবাদ

হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি

বিহারে বিক্ষোভে না থেকেও গ্রেপ্তার! জেলে পাঠানো ৮৫ শিক্ষার্থীকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

০৭:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিহারে সাম্প্রতিক বন্ধ ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, তাদের স্বজনদের কেউ কেউ বিক্ষোভে অংশই নেননি। এরপরও পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

শনিবারের বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সোমবার ভোররাতে পাটনার বেউর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে শুরুতে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি।

বই কিনতে গিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা প্রিন্স কুমার জানান, তার ছোট ভাই পীযূষ কুমার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পুরোনো বই কিনতে গান্ধী ময়দানের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে বিক্ষোভ চললেও তিনি তাতে অংশ নেননি বলে পরিবারের দাবি।

প্রিন্সের অভিযোগ, পুলিশ সেখান থেকেই পীযূষকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাত তিনটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটিও পরিবারকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পেট্রল পাম্পে যাওয়া স্বজনও আটক

পাটনার কঙ্করবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের অভিযোগ, তার স্বজন মোহাম্মদ শারিক কুরেশিও বিক্ষোভে অংশ নিতে যাননি। তিনি পেট্রল পাম্পে গিয়েছিলেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলে গান্ধী ময়দান পুলিশ তাকে আটক করে বলে পরিবারের দাবি।

রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাই পুরো দিন পুলিশ তাদের জানায়নি শারিককে কোন থানায় রাখা হয়েছে। পরদিন কঙ্করবাগ থানায় ফোন করে তাকে গান্ধী ময়দান থানায় খোঁজ নিতে বলা হয়। পরে আদালত চত্বরে গিয়ে তিনি পুলিশভ্যানে শারিককে দেখতে পান।

Protesters clash with police in Bihar amid call for statewide bandh, Tej  Pratap detained in Patna | Patna News - The Indian Express

১৪৪ জনের মধ্যে ৮৫ শিক্ষার্থী কারাগারে

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করছে না এবং গ্রেপ্তারদের মৌলিক অধিকারও যথাযথভাবে মানা হয়নি।

আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে বিচারকের সামনে হাজির করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর আরও অভিযোগ, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। বিক্ষোভে সম্পৃক্ত না থাকা শিক্ষার্থীদেরও আটকের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে কয়েকজন নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪৪ জনের মধ্যে ৮৫ জনকে বেউর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবারগুলোর মূল দাবি, যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

বিহারের এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ যথাযথভাবে পার্থক্য করেছে কি না। গ্রেপ্তারদের অধিকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

বিহারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটাতে স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিহারে বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৪৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভে ছিলেনই না।