মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কয়েক মাস তুলনামূলকভাবে নীরব থাকার পর এবার ইয়েমেনভিত্তিক এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আবারও তীব্র করে তুলতে পারে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করেছে। হুথিদের দাবি, তারাও সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তারা কেবল তেহরানের নির্দেশে পরিচালিত কোনো বাহিনী নয়। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হুথিরা কারা?
হুথিরা ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা প্রায় দুই দশক ধরে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০১৪ সালে তারা রাজধানী সানা দখল করে নেয়, ফলে সরকার দক্ষিণাঞ্চলের শহর এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়।
এর পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুথিদের ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যাপক বিমান অভিযান শুরু করলেও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ফলে উত্তর ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের ফলে সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধিতে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক
হুথিরা নিজেদের ইরানের কথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে। এই জোটে গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও তারা একটি স্বতন্ত্র ইয়েমেনি সংগঠন। আঞ্চলিক বাস্তবতা, নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং সামরিক হিসাব-নিকাশও তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।
কেন নতুন করে উত্তেজনা?
সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে হুথিদের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের পাল্টা বিমান হামলা সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতা করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এই সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রা দিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইয়েমেন নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের নতুন সামরিক তৎপরতা লোহিত সাগর ও ইয়েমেনকে ঘিরে চলমান সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















