ঢাকার কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২৪ জুলাই সংঘটিত এ গুলির ঘটনা ছিল একটি পরিকল্পিত চুক্তিভিত্তিক হত্যাচেষ্টার অংশ। হত্যাকাণ্ড ঘটাতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চারজন পেশাদার অস্ত্রধারীকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
স্থানীয়দের চ্যালেঞ্জে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়
ডিবি জানায়, অভিযুক্তরা ২২ জুলাই ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেয়। ২৩ জুলাই রাতেই তারা হামলার প্রস্তুতি নেয়।
ঘটনার সময় বাবুর কার্যালয়ের আশপাশে স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে স্থানীয়রা তাদের তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন হামলাকারী গুলি ছোড়ে। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ নিহত হন। এছাড়া সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।
বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালির আবর্জনা অপসারণ, সড়কের পাশের ব্যবসা এবং একটি টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের জের ধরেই বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ, দ্বিতীয়বারে রক্তক্ষয়ী ঘটনা
ডিবি জানায়, গত ২৯ জুন প্রথমবার বাবুকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অস্ত্রে গুলি ভরার সময় সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর নতুন পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
গ্রেপ্তার ৮, মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) এবং শাফিন আহমেদ (২২)।
ডিবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ ও শাফিনকে আটক করা হয়। পরে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল, আলী, জিহাদ ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চঞ্চল ও আবিরকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে, হাফিজুর রহমান হাফিজই তাদের এ হামলার জন্য ভাড়া করেছিলেন। তাকে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্ত অব্যাহত
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে তদন্তের মূল বিবেচ্য বিষয়। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিকল্পিত এই হত্যাচেষ্টার সঙ্গে আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনও সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস ও অবস্থান শনাক্তে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা মামলায় ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিভিত্তিক হত্যাচেষ্টার অভিযোগ। গ্রেপ্তার হয়েছে আটজন, মূল অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















