অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ নিয়ে ওঠা কথিত অনিয়মের তদন্ত আরও নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে বিশেষ তদন্ত দলে স্বাধীন ফরেনসিক নিরীক্ষক যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তে স্বাধীন নিরীক্ষকের অন্তর্ভুক্তি
সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনা।
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কথিত অনিয়ম ও অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে একাধিক আবেদনের শুনানিতে আদালত তদন্তের মান ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন করে গঠিত বিশেষ তদন্ত দলে ফরেনসিক নিরীক্ষায় অভিজ্ঞ একজন স্বনামধন্য ও স্বাধীন সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্মতিও জানানো হয়েছে।
চার সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল
উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, কথিত অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক কিরণ এস।
দলে আরও রয়েছেন অযোধ্যা পরিসরের পুলিশের মহাপরিদর্শক সোমেন বর্মা এবং অযোধ্যার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার। আদালতের আগের নির্দেশনা অনুসরণ করেই তদন্ত দলটি পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তকে রাজনৈতিক রূপ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করেছিল। একই সঙ্গে আগে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার ইঙ্গিত পাওয়া তদন্ত দলের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চালানো যায় কি না, তা উত্তর প্রদেশ সরকারকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল।
অনুদানের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন
আবেদনকারীদের একজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত আদালতে দাবি করেন, দেশজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থ আদৌ পুরোপুরি ট্রাস্টের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি অনুদানের সব রসিদের তথ্য ট্রাস্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এতে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন তাঁদের দেওয়া অর্থ ট্রাস্টের কাছে পৌঁছেছে কি না এবং অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
তবে এই পর্যায়ে এমন নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, আগে বিশেষ তদন্ত দলকে তদন্ত শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আবেদনকারীর প্রস্তাবগুলো নথিভুক্ত করে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী পর্যায়ে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
দুই সপ্তাহ পর আবার শুনানি
সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ তদন্ত দলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তের অগ্রগতি তারা নজরদারির মধ্যে রাখবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক আবেদন আদালতে রয়েছে। একজন আবেদনকারী সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত এবং ট্রাস্টের আর্থিক হিসাব ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিরীক্ষার আবেদন করেছেন।
আরেকটি আবেদনে আদালতের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তের পাশাপাশি ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক নিরীক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাগজপত্র, ডিজিটাল হিসাব, তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তরের নথি এবং ব্যাংক বিবরণীসহ সব আর্থিক রেকর্ড সংরক্ষণের আবেদনও করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















