১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকি, চাপে ভারত ভি কামাকোটি কে, কেন তাঁকে ঘিরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্পের মনোনীত ক্লেটন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলা বিশ্বকাপে ‘আর্জেন্টিনা-বিরোধী প্রচারণা’র অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও ব্রাজিলকে দায়ী করলেন মাইলেই বাংলাদেশের আদাবরে তরুণীর মৃত্যু: ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আলোকচিত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা মেক্সিকোর মাদকচক্রের নতুন ঘাঁটি পশ্চিম আফ্রিকা, নাইজেরিয়ায় গোপন কারখানায় বিপুল মেথ উদ্ধার বার্নহামের প্রতিশ্রুতি পূরণে ঋণ বাড়ানোর সুযোগ নেই, কর বাড়ানো বা ব্যয় কমানোর চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা, চীনের তৈরি মানবাকৃতি রোবট আমেরিকায় নিষিদ্ধ ইউক্রেন-ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি-নেতানিয়াহুর বৈঠক

বিচারকের আসনে বসে বিভ্রান্তি ছড়ানো: সত্য বিকৃত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো প্রতিষ্ঠান

যে কোনো অভিশংসন বিচার কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণ করে না; এটি বিচারকার্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা নেয়। বিচারকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি জনসাধারণের প্রত্যাশা থাকে, তারা যেন রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সংযম, নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বিচার শেষ পর্যন্ত কী রায়ে পৌঁছায়, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বিচার চলাকালে বিচারকের প্রতিটি আচরণও।

এই কারণেই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো বিচারক বা বিচারকের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তি যদি নিজের অবস্থান ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্ন থাকে না; সেটি বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক বিতর্কে প্রকাশিত সম্পাদিত ভিডিওকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মূল সমস্যা ভিডিও সম্পাদনা নয়, বরং সম্পাদনার উদ্দেশ্য। কোনো দীর্ঘ বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য ভিডিও সম্পাদনা করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি সেই সম্পাদনার ফলে বক্তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে যায়, তার উত্তর বা অবস্থান আড়াল হয়ে যায় এবং দর্শকের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়, তাহলে সেটি আর নিরপেক্ষ সম্পাদনা থাকে না। তখন তা তথ্য বিকৃতির হাতিয়ারে পরিণত হয়।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পার্থক্য রয়েছে। সব মিথ্যা বানানো তথ্য দিয়ে তৈরি হয় না। অনেক সময় বাস্তব তথ্যের কিছু অংশ বাদ দিয়েই এমন একটি চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব, যা দর্শকের কাছে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য ধারণা সৃষ্টি করে। ফলে ভিডিওর প্রতিটি দৃশ্য সত্য হলেও সামগ্রিক বার্তাটি মিথ্যা হতে পারে। তথ্য গোপন করে সত্যকে বিকৃত করাও বিভ্রান্তি ছড়ানোরই একটি পদ্ধতি।

একজন সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে হয়তো অজ্ঞতার যুক্তি কিছুটা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একই যুক্তি এমন একজন আইনজীবী বা বিচারকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না, যিনি নিজেই পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষ অংশ ছিলেন এবং জানতেন কোন অংশ বাদ দিলে দর্শকের কাছে ভিন্ন অর্থ পৌঁছাবে। আইন পেশায় থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাধারণ নাগরিকের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতা ও পেশাগত দায়িত্ব প্রত্যাশিত।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখন এমন আচরণ একজন বিচারকের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, তখন সেটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সীমা ছাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহারে রূপ নেয়। বিচারাধীন একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে জনসমক্ষে অসম্পূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে দুর্বল বা হাস্যকর হিসেবে তুলে ধরা বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই ধরনের আচরণকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার চেষ্টা বাস্তবতাকে আড়াল করে। কারণ এখানে ব্যক্তি কেবল রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন না; তিনি একই সঙ্গে একজন আইনজীবী এবং বিচারিক দায়িত্ব পালনকারীও। ফলে তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি উপস্থাপনার সঙ্গে অতিরিক্ত নৈতিক দায়িত্ব যুক্ত থাকে।

Be mindful of what you spread about people. The fact that you heard it from someone you 'trust' doesn't mean it's true. It's been almost 30 years and it still affects and

এমন পরিস্থিতিতে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নীরব থাকলে ক্ষতি কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিচারকার্যে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে বিচার প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রচার, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এর চেয়ে বড় সংকট আর কিছু হতে পারে না।

এ কারণে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদীয় নীতিনৈতিকতা বিষয়ক ব্যবস্থার প্রয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা উচিত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কিন্তু অভিযোগই উপেক্ষা করা কিংবা কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমন অবস্থানও আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আইনজীবী হওয়া কেবল একটি পেশাগত পরিচয় নয়; এটি একটি অব্যাহত নৈতিক দায়িত্ব। রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও সেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ জনগণ তখন শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো বিচারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোকেই তাঁর আচরণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাই কোনো একক ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট নয়। প্রকৃত উদ্বেগ হলো এমন নজির তৈরি হওয়া, যেখানে বিচারিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও তথ্যকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে পারেন এবং তবুও কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি না হন। এমন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে আদালত ধীরে ধীরে বিচারকক্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চে পরিণত হবে।

একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের নৈতিক শক্তি তার ক্ষমতায় নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতায় নিহিত। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন একই মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা। বিচারকের আসনে বসে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করেন এবং প্রতিষ্ঠান সেটিকে উপেক্ষা করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে অন্য কারও সততা বা জবাবদিহি দাবি করার নৈতিক ভিত্তিও ক্রমশ হারিয়ে ফেলবে। বিচার, আইন এবং শপথ—এসব তখন কেবল আনুষ্ঠানিক শব্দে পরিণত হবে, বাস্তব মূল্য হারাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকি, চাপে ভারত

বিচারকের আসনে বসে বিভ্রান্তি ছড়ানো: সত্য বিকৃত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো প্রতিষ্ঠান

১০:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যে কোনো অভিশংসন বিচার কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণ করে না; এটি বিচারকার্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা নেয়। বিচারকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি জনসাধারণের প্রত্যাশা থাকে, তারা যেন রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সংযম, নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বিচার শেষ পর্যন্ত কী রায়ে পৌঁছায়, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বিচার চলাকালে বিচারকের প্রতিটি আচরণও।

এই কারণেই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো বিচারক বা বিচারকের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তি যদি নিজের অবস্থান ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্ন থাকে না; সেটি বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক বিতর্কে প্রকাশিত সম্পাদিত ভিডিওকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মূল সমস্যা ভিডিও সম্পাদনা নয়, বরং সম্পাদনার উদ্দেশ্য। কোনো দীর্ঘ বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য ভিডিও সম্পাদনা করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি সেই সম্পাদনার ফলে বক্তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে যায়, তার উত্তর বা অবস্থান আড়াল হয়ে যায় এবং দর্শকের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়, তাহলে সেটি আর নিরপেক্ষ সম্পাদনা থাকে না। তখন তা তথ্য বিকৃতির হাতিয়ারে পরিণত হয়।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পার্থক্য রয়েছে। সব মিথ্যা বানানো তথ্য দিয়ে তৈরি হয় না। অনেক সময় বাস্তব তথ্যের কিছু অংশ বাদ দিয়েই এমন একটি চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব, যা দর্শকের কাছে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য ধারণা সৃষ্টি করে। ফলে ভিডিওর প্রতিটি দৃশ্য সত্য হলেও সামগ্রিক বার্তাটি মিথ্যা হতে পারে। তথ্য গোপন করে সত্যকে বিকৃত করাও বিভ্রান্তি ছড়ানোরই একটি পদ্ধতি।

একজন সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে হয়তো অজ্ঞতার যুক্তি কিছুটা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একই যুক্তি এমন একজন আইনজীবী বা বিচারকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না, যিনি নিজেই পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষ অংশ ছিলেন এবং জানতেন কোন অংশ বাদ দিলে দর্শকের কাছে ভিন্ন অর্থ পৌঁছাবে। আইন পেশায় থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাধারণ নাগরিকের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতা ও পেশাগত দায়িত্ব প্রত্যাশিত।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখন এমন আচরণ একজন বিচারকের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, তখন সেটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সীমা ছাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহারে রূপ নেয়। বিচারাধীন একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে জনসমক্ষে অসম্পূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে দুর্বল বা হাস্যকর হিসেবে তুলে ধরা বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই ধরনের আচরণকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার চেষ্টা বাস্তবতাকে আড়াল করে। কারণ এখানে ব্যক্তি কেবল রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন না; তিনি একই সঙ্গে একজন আইনজীবী এবং বিচারিক দায়িত্ব পালনকারীও। ফলে তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি উপস্থাপনার সঙ্গে অতিরিক্ত নৈতিক দায়িত্ব যুক্ত থাকে।

Be mindful of what you spread about people. The fact that you heard it from someone you 'trust' doesn't mean it's true. It's been almost 30 years and it still affects and

এমন পরিস্থিতিতে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নীরব থাকলে ক্ষতি কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিচারকার্যে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে বিচার প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রচার, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এর চেয়ে বড় সংকট আর কিছু হতে পারে না।

এ কারণে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদীয় নীতিনৈতিকতা বিষয়ক ব্যবস্থার প্রয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা উচিত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কিন্তু অভিযোগই উপেক্ষা করা কিংবা কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমন অবস্থানও আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আইনজীবী হওয়া কেবল একটি পেশাগত পরিচয় নয়; এটি একটি অব্যাহত নৈতিক দায়িত্ব। রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও সেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ জনগণ তখন শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো বিচারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোকেই তাঁর আচরণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাই কোনো একক ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট নয়। প্রকৃত উদ্বেগ হলো এমন নজির তৈরি হওয়া, যেখানে বিচারিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও তথ্যকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে পারেন এবং তবুও কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি না হন। এমন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে আদালত ধীরে ধীরে বিচারকক্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চে পরিণত হবে।

একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের নৈতিক শক্তি তার ক্ষমতায় নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতায় নিহিত। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন একই মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা। বিচারকের আসনে বসে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করেন এবং প্রতিষ্ঠান সেটিকে উপেক্ষা করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে অন্য কারও সততা বা জবাবদিহি দাবি করার নৈতিক ভিত্তিও ক্রমশ হারিয়ে ফেলবে। বিচার, আইন এবং শপথ—এসব তখন কেবল আনুষ্ঠানিক শব্দে পরিণত হবে, বাস্তব মূল্য হারাবে।