০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি

ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব

ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়—এ কথা নতুন নয়। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে দেখা গেছে, যে মানুষ একসময় নীতি, আদর্শ ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেতৃত্বের আসনে উঠেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেকেই নিজেদেরই তৈরি করা মূল্যবোধ থেকে সরে গেছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে কেবল সরকারের রদবদল হয় না; বদলে যায় মানুষের মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং সত্যকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও।

সমাজের স্মৃতিতে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তরুণ, উদ্যমী এবং সৎ ভাবমূর্তি নিয়ে যাত্রা শুরু করা অনেক নেতা পরবর্তীতে ক্ষমতার মোহে নিজেদের চরিত্রের বিপরীত রূপে পরিণত হয়েছেন। আবার এমন পরিবারও আছে, যাদের দীর্ঘদিনের সুনাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের আচরণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বলে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে; এগুলো ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার এমন কী বৈশিষ্ট্য আছে, যা একজন মানুষকে ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়?

সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন একজন নেতা সত্যকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার অধিকার আছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি হয়তো আন্তরিক, কর্মঠ এবং সৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন থাকেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চারপাশে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে সমালোচনার পরিবর্তে প্রশংসাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। সিদ্ধান্তের মূল্যায়নের বদলে শুরু হয় অন্ধ সমর্থন। তখন বাস্তবতার পরিবর্তে প্রতিধ্বনির ভেতর বসবাস করতে করতে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর বিচারই চূড়ান্ত।

প্রাচীন গ্রিকরা এই মানসিক অবস্থার একটি নাম দিয়েছিল—হিউব্রিস। অর্থাৎ এমন এক অহংকার, যা মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা ভুলিয়ে দেয় এবং তাকে বিশ্বাস করায় যে প্রচলিত নিয়ম আর তার জন্য প্রযোজ্য নয়।

Modern political jargon, English and you — Wordsmith - Copywriting and  Speechwriting in Hong Kong

বিশ্বসাহিত্য ও পুরাণে এই প্রবণতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। সেখানে নায়কের পতন সাধারণত শক্তির অভাবে নয়, বরং আত্মসংযম হারানোর কারণে ঘটে। বিজয়ের পরও যখন কেউ নিজেকে আরও বড় প্রমাণ করার প্রয়োজন অনুভব করে, তখন সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়ের সূচনা করে। ক্ষমতার ইতিহাসে এই শিক্ষা বারবার ফিরে এসেছে।

আধুনিক রাজনীতিতেও একই চিত্র দেখা যায়। কখনও রাজনৈতিক নেতা, কখনও বিচারক, কখনও করপোরেট নির্বাহী, আবার কখনও গণমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি—অনেকেই এমন আচরণ করেন যেন তাঁদের সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যকে আর যাচাই করার প্রয়োজন নেই। তাঁরা মনে করেন, নিজের অবস্থানই সত্যের সমার্থক।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রবণতা শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সত্যকেও বিকৃত করতে শুরু করে। তথ্যকে আংশিকভাবে উপস্থাপন করা, প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া কিংবা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বাস্তবতাকে নিজের মতো সাজিয়ে তোলা—এসব তখন স্বাভাবিক কৌশলে পরিণত হয়। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি কেবল আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে ন্যায্যতার সীমারেখাও আর দৃশ্যমান থাকে না?

আজকের ডিজিটাল যুগে এই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্ষমতাবানদের জন্য সরাসরি জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সমালোচনার জবাব অনেক সময় যুক্তি দিয়ে নয়, বরং আবেগ, আক্রমণ কিংবা নিজের সংস্করণকে একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় দেওয়া হয়। ফলে জনপরিসরে বিতর্কের জায়গা সংকুচিত হয় এবং বিভাজন আরও গভীর হয়।

এ কারণেই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিনয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটিই যথেষ্ট নয়। কারণ একজন বিনয়ী মানুষও ভুল করতে পারেন। মানুষের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই কোনো গণতান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে এমন কাঠামোর ওপর, যা ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহির আওতায় রাখে।

Anti-Corruption Laws in India: Prevention of Corruption Act 1988 (Updated)  - Bhatt & Joshi Associates

জবাবদিহি শুধু দুর্নীতি রোধের উপায় নয়; এটি নেতৃত্বকে বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত রাখারও ব্যবস্থা। যখন একজন নেতা জানেন যে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তখন তিনি আরও সতর্ক হন। আর যখন তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তাঁকে কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না, তখনই ক্ষমতার অসুখ গভীর হতে থাকে।

একজন সফল নেতার মূল্যায়ন কেবল তাঁর জয়-পরাজয় দিয়ে করা যায় না। যুদ্ধ জেতা, নির্বাচন জেতা কিংবা বিতর্কে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়া নেতৃত্বের পূর্ণ পরিচয় নয়। প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয় তখন, যখন ক্ষমতাবান ব্যক্তি নিজের জন্যও সেই একই মানদণ্ড গ্রহণ করেন, যা তিনি অন্যদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চান।

আত্মসংযম, ন্যায্যতা এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা—এই তিনটি গুণই একজন নেতাকে ক্ষমতার মোহ থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ ক্ষমতার সবচেয়ে বড় শত্রু বিরোধী পক্ষ নয়; বরং সেই বিশ্বাস যে নিজের অবস্থানই সর্বদা সঠিক এবং নিজের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই।

অবশেষে, নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতার পরিমাণে নয়, বরং সেই ক্ষমতাকে সীমার মধ্যে রাখার সক্ষমতায়। যে নেতা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন, সমালোচনাকে শত্রু নয় বরং সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখেন এবং নিজেকেও আইনের ও নৈতিকতার একই মানদণ্ডে বিচার করতে প্রস্তুত থাকেন—শেষ পর্যন্ত তিনিই দীর্ঘস্থায়ী আস্থা অর্জন করেন। ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না; বরং ক্ষমতার ব্যবহারের ধরনই একজন মানুষের প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় নির্ধারণ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ

ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব

০৭:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়—এ কথা নতুন নয়। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে দেখা গেছে, যে মানুষ একসময় নীতি, আদর্শ ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেতৃত্বের আসনে উঠেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেকেই নিজেদেরই তৈরি করা মূল্যবোধ থেকে সরে গেছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে কেবল সরকারের রদবদল হয় না; বদলে যায় মানুষের মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং সত্যকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও।

সমাজের স্মৃতিতে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তরুণ, উদ্যমী এবং সৎ ভাবমূর্তি নিয়ে যাত্রা শুরু করা অনেক নেতা পরবর্তীতে ক্ষমতার মোহে নিজেদের চরিত্রের বিপরীত রূপে পরিণত হয়েছেন। আবার এমন পরিবারও আছে, যাদের দীর্ঘদিনের সুনাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের আচরণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বলে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে; এগুলো ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার এমন কী বৈশিষ্ট্য আছে, যা একজন মানুষকে ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়?

সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন একজন নেতা সত্যকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার অধিকার আছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি হয়তো আন্তরিক, কর্মঠ এবং সৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন থাকেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চারপাশে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে সমালোচনার পরিবর্তে প্রশংসাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। সিদ্ধান্তের মূল্যায়নের বদলে শুরু হয় অন্ধ সমর্থন। তখন বাস্তবতার পরিবর্তে প্রতিধ্বনির ভেতর বসবাস করতে করতে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর বিচারই চূড়ান্ত।

প্রাচীন গ্রিকরা এই মানসিক অবস্থার একটি নাম দিয়েছিল—হিউব্রিস। অর্থাৎ এমন এক অহংকার, যা মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা ভুলিয়ে দেয় এবং তাকে বিশ্বাস করায় যে প্রচলিত নিয়ম আর তার জন্য প্রযোজ্য নয়।

Modern political jargon, English and you — Wordsmith - Copywriting and  Speechwriting in Hong Kong

বিশ্বসাহিত্য ও পুরাণে এই প্রবণতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। সেখানে নায়কের পতন সাধারণত শক্তির অভাবে নয়, বরং আত্মসংযম হারানোর কারণে ঘটে। বিজয়ের পরও যখন কেউ নিজেকে আরও বড় প্রমাণ করার প্রয়োজন অনুভব করে, তখন সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়ের সূচনা করে। ক্ষমতার ইতিহাসে এই শিক্ষা বারবার ফিরে এসেছে।

আধুনিক রাজনীতিতেও একই চিত্র দেখা যায়। কখনও রাজনৈতিক নেতা, কখনও বিচারক, কখনও করপোরেট নির্বাহী, আবার কখনও গণমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি—অনেকেই এমন আচরণ করেন যেন তাঁদের সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যকে আর যাচাই করার প্রয়োজন নেই। তাঁরা মনে করেন, নিজের অবস্থানই সত্যের সমার্থক।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রবণতা শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সত্যকেও বিকৃত করতে শুরু করে। তথ্যকে আংশিকভাবে উপস্থাপন করা, প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া কিংবা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বাস্তবতাকে নিজের মতো সাজিয়ে তোলা—এসব তখন স্বাভাবিক কৌশলে পরিণত হয়। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি কেবল আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে ন্যায্যতার সীমারেখাও আর দৃশ্যমান থাকে না?

আজকের ডিজিটাল যুগে এই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্ষমতাবানদের জন্য সরাসরি জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সমালোচনার জবাব অনেক সময় যুক্তি দিয়ে নয়, বরং আবেগ, আক্রমণ কিংবা নিজের সংস্করণকে একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় দেওয়া হয়। ফলে জনপরিসরে বিতর্কের জায়গা সংকুচিত হয় এবং বিভাজন আরও গভীর হয়।

এ কারণেই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিনয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটিই যথেষ্ট নয়। কারণ একজন বিনয়ী মানুষও ভুল করতে পারেন। মানুষের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই কোনো গণতান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে এমন কাঠামোর ওপর, যা ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহির আওতায় রাখে।

Anti-Corruption Laws in India: Prevention of Corruption Act 1988 (Updated)  - Bhatt & Joshi Associates

জবাবদিহি শুধু দুর্নীতি রোধের উপায় নয়; এটি নেতৃত্বকে বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত রাখারও ব্যবস্থা। যখন একজন নেতা জানেন যে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তখন তিনি আরও সতর্ক হন। আর যখন তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তাঁকে কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না, তখনই ক্ষমতার অসুখ গভীর হতে থাকে।

একজন সফল নেতার মূল্যায়ন কেবল তাঁর জয়-পরাজয় দিয়ে করা যায় না। যুদ্ধ জেতা, নির্বাচন জেতা কিংবা বিতর্কে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়া নেতৃত্বের পূর্ণ পরিচয় নয়। প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয় তখন, যখন ক্ষমতাবান ব্যক্তি নিজের জন্যও সেই একই মানদণ্ড গ্রহণ করেন, যা তিনি অন্যদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চান।

আত্মসংযম, ন্যায্যতা এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা—এই তিনটি গুণই একজন নেতাকে ক্ষমতার মোহ থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ ক্ষমতার সবচেয়ে বড় শত্রু বিরোধী পক্ষ নয়; বরং সেই বিশ্বাস যে নিজের অবস্থানই সর্বদা সঠিক এবং নিজের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই।

অবশেষে, নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতার পরিমাণে নয়, বরং সেই ক্ষমতাকে সীমার মধ্যে রাখার সক্ষমতায়। যে নেতা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন, সমালোচনাকে শত্রু নয় বরং সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখেন এবং নিজেকেও আইনের ও নৈতিকতার একই মানদণ্ডে বিচার করতে প্রস্তুত থাকেন—শেষ পর্যন্ত তিনিই দীর্ঘস্থায়ী আস্থা অর্জন করেন। ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না; বরং ক্ষমতার ব্যবহারের ধরনই একজন মানুষের প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় নির্ধারণ করে।