০৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ইলন মাস্কের বক্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক, বর্ণবাদী ও উগ্র ডানপন্থী ভাষ্য ছড়ানোর অভিযোগ ফিফা সভাপতির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা: কী ঘটেছে? জামিনে মুক্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই খুন, যুক্তরাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক মাকে হারাতে চাননি, তাই চার বছর ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখলেন ছেলে! পরে ফাঁস হলো কোটি টাকার কাছাকাছি ভাতা জালিয়াতি কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের জয়, ভেঙে যাচ্ছে স্কুল পরিচালনা ট্রাস্ট রাষ্ট্র যখন শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে: দেড় শতকের ইতিহাস যে সতর্কবার্তা দেয় জরুরি অবস্থা, ক্ষমতার সমীকরণ এবং আনোয়ারের রাজনৈতিক অপেক্ষা ট্রাম্পের নামে মরক্কোর মহাসড়ক, পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক বার্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা: বিভক্ত বিশ্ব কি সময় শেষ হওয়ার আগেই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে? মাদকের বিস্তারে ভাঙছে নিরাপত্তা

যুদ্ধের চেয়ে বড় সংকট: নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাতের মুখে বিশ্ব

বিশ্ব রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো একক সিদ্ধান্তের চেয়ে ঘটনাগুলোর পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংকট তেমনই একটি সময়। এটি আর কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়; বরং এমন এক অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক পদক্ষেপ, আঞ্চলিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একে অপরকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে, তার নিশ্চয়তা এখন আর কারও হাতে নেই।

উল্টো পথে হাঁটা কৌশল

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। একদিকে নতুন বিমান হামলার ঘোষণা, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই হামলা স্থগিত রাখার বার্তা—এ ধরনের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত যুদ্ধ পরিচালনায় দৃঢ় কৌশলের পরিবর্তে বিভ্রান্তির ইঙ্গিত দেয়। যদি যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিণতি এবং বেরিয়ে আসার পথ স্পষ্ট না থাকে, তবে সামরিক শক্তি যত বড়ই হোক, সেটি রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না।

এই সংকটের সূচনাতেই একটি বড় ভুল ধারণা কাজ করেছে। সীমিত বিমান হামলা এবং সম্ভাব্য জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায়নি। গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল সামরিক চাপের মুখে সহজে ভেঙে পড়ে না। ফলে প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প কৌশলের অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরও ৩ দেশকে পতনের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের | কালবেলা

এটি আর শুধু ইরানের যুদ্ধ নয়

ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ছিল তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আজকের সংঘাত সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র ধারণ করেছে।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা সক্রিয়, লোহিত সাগরে হুথিদের ভূমিকা সংঘাতকে বিস্তৃত করছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও এই সমীকরণে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে একটি যুদ্ধ এখন একাধিক ভূরাজনৈতিক সংকটকে একই সুতোয় গেঁথে ফেলছে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি

এই সংঘাতের প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকলে তার অভিঘাত উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় অর্থনীতির ওপরই পড়বে।

অর্থাৎ যুদ্ধের মূল্য কেবল সামরিক ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপরও।

নতুন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

এই সংঘাত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই সবকিছু নয়। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও তুলনামূলকভাবে কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধারাবাহিক হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে।

America Downs Cheap Drones With Million-Dollar Missiles. A Fix Is In the  Works. - WSJ

যদি কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ ডলারের অস্ত্র ধ্বংস করতে বারবার কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেই ভারসাম্য টেকসই থাকে না। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাও আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

কর্তৃত্ববাদ বনাম গণতন্ত্রের যুদ্ধের হিসাব

যুদ্ধের আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো, সব রাষ্ট্র মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্য একইভাবে বিবেচনা করে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনমত ও রাজনৈতিক জবাবদিহি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিন্তু কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা অনেক সময় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতিও মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে।

এই মানসিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চরিত্র বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও পরীক্ষা

সংকট যত গভীর হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিয়ে। যুদ্ধের মতো সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের ভূমিকা কতটা কার্যকর, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা কোথায় এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখন আর কেবল সাংবিধানিক বিতর্ক নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।

গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠানের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের পথও সংকুচিত হয়ে যায়।

5 Wars That Experts Fear Could Start in the Next 5 Years - POLITICO

সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা

বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী—এমন দাবি করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। কূটনীতি, সংলাপ এবং রাজনৈতিক সংযমের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ ক্রমশ বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

ইতিহাসের বড় বিপর্যয়গুলো খুব কম ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে শুরু হয়েছে। অধিকাংশ সময়ই সংকেতগুলো ছিল দৃশ্যমান, কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আজকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও সেখানেই।

আত্মতুষ্টির পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করা, রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা—এই তিনটিই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তার পরিণতি থামানো ততটাই কঠিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলন মাস্কের বক্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক, বর্ণবাদী ও উগ্র ডানপন্থী ভাষ্য ছড়ানোর অভিযোগ

যুদ্ধের চেয়ে বড় সংকট: নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাতের মুখে বিশ্ব

০৭:০০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো একক সিদ্ধান্তের চেয়ে ঘটনাগুলোর পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংকট তেমনই একটি সময়। এটি আর কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়; বরং এমন এক অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক পদক্ষেপ, আঞ্চলিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একে অপরকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে, তার নিশ্চয়তা এখন আর কারও হাতে নেই।

উল্টো পথে হাঁটা কৌশল

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। একদিকে নতুন বিমান হামলার ঘোষণা, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই হামলা স্থগিত রাখার বার্তা—এ ধরনের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত যুদ্ধ পরিচালনায় দৃঢ় কৌশলের পরিবর্তে বিভ্রান্তির ইঙ্গিত দেয়। যদি যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিণতি এবং বেরিয়ে আসার পথ স্পষ্ট না থাকে, তবে সামরিক শক্তি যত বড়ই হোক, সেটি রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না।

এই সংকটের সূচনাতেই একটি বড় ভুল ধারণা কাজ করেছে। সীমিত বিমান হামলা এবং সম্ভাব্য জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায়নি। গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল সামরিক চাপের মুখে সহজে ভেঙে পড়ে না। ফলে প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প কৌশলের অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরও ৩ দেশকে পতনের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের | কালবেলা

এটি আর শুধু ইরানের যুদ্ধ নয়

ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ছিল তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আজকের সংঘাত সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র ধারণ করেছে।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা সক্রিয়, লোহিত সাগরে হুথিদের ভূমিকা সংঘাতকে বিস্তৃত করছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও এই সমীকরণে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে একটি যুদ্ধ এখন একাধিক ভূরাজনৈতিক সংকটকে একই সুতোয় গেঁথে ফেলছে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি

এই সংঘাতের প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকলে তার অভিঘাত উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় অর্থনীতির ওপরই পড়বে।

অর্থাৎ যুদ্ধের মূল্য কেবল সামরিক ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপরও।

নতুন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

এই সংঘাত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই সবকিছু নয়। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও তুলনামূলকভাবে কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধারাবাহিক হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে।

America Downs Cheap Drones With Million-Dollar Missiles. A Fix Is In the  Works. - WSJ

যদি কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ ডলারের অস্ত্র ধ্বংস করতে বারবার কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেই ভারসাম্য টেকসই থাকে না। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাও আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

কর্তৃত্ববাদ বনাম গণতন্ত্রের যুদ্ধের হিসাব

যুদ্ধের আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো, সব রাষ্ট্র মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্য একইভাবে বিবেচনা করে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনমত ও রাজনৈতিক জবাবদিহি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিন্তু কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা অনেক সময় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতিও মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে।

এই মানসিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চরিত্র বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও পরীক্ষা

সংকট যত গভীর হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিয়ে। যুদ্ধের মতো সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের ভূমিকা কতটা কার্যকর, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা কোথায় এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখন আর কেবল সাংবিধানিক বিতর্ক নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।

গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠানের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের পথও সংকুচিত হয়ে যায়।

5 Wars That Experts Fear Could Start in the Next 5 Years - POLITICO

সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা

বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী—এমন দাবি করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। কূটনীতি, সংলাপ এবং রাজনৈতিক সংযমের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ ক্রমশ বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

ইতিহাসের বড় বিপর্যয়গুলো খুব কম ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে শুরু হয়েছে। অধিকাংশ সময়ই সংকেতগুলো ছিল দৃশ্যমান, কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আজকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও সেখানেই।

আত্মতুষ্টির পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করা, রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা—এই তিনটিই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তার পরিণতি থামানো ততটাই কঠিন।