বিহারের বহুল আলোচিত ব্যাংকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনায় জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিজেপি-দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এমন ফলাফলের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ও জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, এটি বিজেপির জন্য ‘শেষের শুরুর’ ইঙ্গিত। তাঁর ভাষায়, একের পর এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পর শেষ পর্যন্ত যে আসনটি বহু বছর ধরে বিজেপির দখলে ছিল, সেই আসনেই দলটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ছে।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের চার দফা কটাক্ষ
ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর বার্তায় ধারাবাহিকভাবে চারটি রাজনৈতিক ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিহারের এক বিধায়ককে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা, সেই কারণে ব্যাংকিপুর আসন শূন্য হওয়া, প্রার্থী বদলের ঘটনা এবং শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনে পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে বিজেপির জন্য এটি একটি অস্বস্তিকর রাজনৈতিক বার্তা।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপির সাংগঠনিক কৌশল এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
প্রশান্ত কিশোরের শক্ত অবস্থান
ভোটগণনার সর্বশেষ ধাপে প্রশান্ত কিশোর ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
যদিও এটি মাত্র একটি আসনের উপনির্বাচন, তবুও জাতীয় রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, এই আসনটি গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিপুর?
ব্যাংকিপুর দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। সদ্য দলীয় জাতীয় সভাপতি হওয়া নীতিন নবীন টানা প্রায় দুই দশক এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর আগে তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও একাধিকবার এখান থেকে নির্বাচিত হন।
নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বিধায়ক পদ শূন্য হলে এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
প্রার্থী বদলে বিপাকে বিজেপি
নির্বাচনের আগেই বিজেপি অস্বস্তিতে পড়ে। প্রথমে দল অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরপর বিজেপি নীরজ কুমার সিনহাকে নতুন প্রার্থী করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল রেখা কুমারীকে প্রার্থী দেয় এবং জন সুরাজের পক্ষ থেকে নিজেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর।
বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় জয় পেলেও এরপর বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। নীতিন নবীন রাজ্যসভায় গেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদে পরিবর্তন হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিপুরের এই ফলকে আগামী দিনের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই।
তবে ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কত দাঁড়ায় এবং এই ফল বিহারের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকে এখন সবার নজর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















