রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন—দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারের কাছ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি থাকলেও তফসিল ঘোষণার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি কমিশন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রেও সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইসি।
সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল এখনো চূড়ান্ত নয়
ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর কমিশন বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল নির্ধারণ করবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩(২) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সেই পদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা কমিশনের কাছে পৌঁছেনি। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা পরিবর্তন হবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ভোটার নিবন্ধনের শেষ সময় ৩১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন হবে, তা সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রস্তুত
ইসি সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য কমিশন একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। শিগগিরই সেটি বিবেচনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও মুদ্রণের জন্য আরও প্রায় দেড় মাস প্রয়োজন হয়। ফলে একটি নির্বাচন আয়োজনের আগে কমিশনের মোটামুটি তিন মাস প্রস্তুতির সময় দরকার হয়।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর—বিভিন্ন সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না থাকায় সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
প্রস্তুতি চললেও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নেই
সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, তাঁর জানা মতে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
৩৮টি রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা
ইসি সচিব জানান, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৮টি দল ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।
এ ছাড়া ১৩টি দল প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং আটটি দল এখনো কোনো সাড়া দেয়নি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তবে চলতি বছর নির্ধারিত দিন শুক্রবার হওয়ায় নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত করেছিল।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন এখনো স্থগিত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার ভোট নিয়ে অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন, সরকারের নির্দেশনা না আসায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভোটার তালিকা পেলেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণ হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















