যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়ায় এ বছর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। মহামারির প্রভাব, ভর্তি পরীক্ষার নীতিতে পরিবর্তন, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নীতিতে নতুন বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এখন আগের চেয়ে আরও ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবর্তনের এই সময়েও শিক্ষার্থীদের জন্য আশার খবর রয়েছে।
আবেদনপত্রে কমছে অতিরিক্ত প্রবন্ধের চাপ
অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রবন্ধ বা আলাদা রচনা চাওয়ার নিয়ম বাতিল করছে। আগে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও আলাদা লেখা জমা দিতে হতো। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করছে, এসব অতিরিক্ত প্রবন্ধ ভর্তি সিদ্ধান্তে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে এবং ভর্তি কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবন্ধের মৌলিকতা যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবার গুরুত্ব পাচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা
মহামারির সময় বহু বিশ্ববিদ্যালয় এসিএটি ও এসএটি পরীক্ষার নম্বর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা বন্ধ করেছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরকে আবার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানে ফলাফলের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং নম্বরের অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর সক্ষমতা মূল্যায়নে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজছে। সেই কারণে মানসম্মত ভর্তি পরীক্ষার ফল আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে
প্রতি বছর আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীও আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে আবেদন জমা দিচ্ছেন। এর ফলে বিশেষ করে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি হার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।
সবচেয়ে জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লাখের কাছাকাছি আবেদন জমা পড়ছে, অথচ সুযোগ পাচ্ছেন খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপও বাড়ছে।
আগাম আবেদন আরও গুরুত্বপূর্ণ
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন আগাম আবেদনকারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থী আগে থেকেই নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের জন্য আগাম আবেদনের সুযোগ তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়ে উঠছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত তাদের আসন পূরণ করা এবং ভর্তি-পরবর্তী অনিশ্চয়তা কমানো। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত আবেদনের তুলনায় আগাম আবেদনকারীদের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনিশ্চয়তা
এ বছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন নীতিমালার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং বাড়তি নজরদারিও আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈচিত্র্য নীতিতে নতুন বাস্তবতা
জাতিগত বিবেচনায় ভর্তি নীতির অবসানের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী নির্বাচন পদ্ধতিতে নতুন কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করছে। তবে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন তদন্ত ও বাড়তি নজরদারির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভর্তি সিদ্ধান্তে পরীক্ষার ফল, শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা এবং অন্যান্য পরিমাপযোগ্য সূচকের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
তবু রয়েছে আশার খবর
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এখনও আবেদনকারীদের বড় অংশকেই ভর্তি করে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তির সুযোগও রয়েছে।
তাদের মতে, কয়েকটি অতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র দেখে পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বিচার করা উচিত নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় সুযোগ এখনও উন্মুক্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















